স্কুল-লাগোয়া মদের দোকান সরাতে সফল ২ শিক্ষার্থী এবার মদই নিষিদ্ধ চান

|

স্কুলের ঠিক পাশেই মদের দোকান। ব্যাপারটি ভালো লাগেনি ঐ স্কুলেরই ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ই এম ইলাথেণ্ড্রাল এবং চতুর্থ শ্রেণির আরিভারাসন-এর। সম্পর্কে আবার তারা ভাইবোন। বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ ও শিশুদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে তারা চিঠি লিখলো কালেক্টরেট অফিস বরাবর।

তামিলনাড়ুর আরিয়ালুর জেলার কালেক্টর সেই চিঠি পড়লেন। ব্যবস্থাও নিলেন। আগামী নভেম্বরে সেই স্কুলে শারীরিকভাবে ক্লাস শুরুর আগেই মদের দোকানটি সেখান থেকে অপসারণের আদেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এই সাফল্যের আত্মবিশ্বাসে দুই ভাইবোন এবার চিঠি দিয়েছে তামিল মুখ্যমন্ত্রীকে। উদ্দেশ্য, শুধু স্কুল-লাগোয়া নয়, বরং প্রদেশটির সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করা।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইলাথেণ্ড্রাল বলেছে, তারা ওখানে মদ খায়, গালিগালাজ করে। এগুলো আমাদের জন্য ভীতিকর। মদের জন্যই অনেক বাবা-মা সন্তানকে কাজে পাঠায় বা ভিক্ষা করায়। যদি আমরা সব মদের দোকানই বন্ধ করে দিই, এরকম কোনো ঘটনাই ঘটবে না।

এদিকে স্কুলের ১০০ মিটার পরিধির মধ্যে কোনো মদের দোকান থাকতে পারবে না বলে ২০১৫ সালে রুল জারি করেছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আরিয়ালু জেলার ঐ মদের দোকানটি অবশ্য এই ১০০ মিটার পরিধির বাইরেই ছিল। তবু একে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে দোকানটি স্থানান্তরের আদেশ দেন জেলা প্রশাসক পি রমন সরস্বতী।

এ ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে সর্বত্র। প্রশংসিত হচ্ছে ইলাথেণ্ড্রা ও আরিভারাসন। তাদের বাবা-মা বইয়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

তামিলনাড়ুর এক সমাজকর্মী প্রণীতা টিমোথি বলেন, এরাই আমাদের ভবিষ্যতের নেতা। তারা দফেখিয়ে দিয়েছে দায়িত্ব নেয়া আসলে কাকে বলে এবং কতোটা সাহস নিয়ে সমাজ বদলে নামতে হয়।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply