কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

|

কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও মণ্ডপ পরিদর্শনে গেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্বে আছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) তারা মণ্ডপটি পরিদর্শন করেন।

এছাড়া দুপুর নাগাদ সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এই মণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনও কুমিল্লায় যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, মণ্ডপকাণ্ডে গ্রেফতার ইকবালকে গতকাল দুপুর থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে কখন নাগাদ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হতে পারে সে বিষয়ে জানাননি তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আজকেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে তোলা হতে পারে।

ইকবাল কীভাবে কক্সবাজার পৌঁছালো, সে মানসিক রোগী হলে কেনই বা সে মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখলো তা পুলিশ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানাবে। এছাড়া যারা লাইভে গিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যাদের সাথে তার মসজিদে কথা হয়েছিল তাদের সবার ব্যাপারেই জানা যাবে ব্রিফিংয়ে।

তবে পুলিশ কখন ব্রিফ করবে এ বিষয়ে তারা কিছুই জানায়নি। ব্রিফিং আজকের মধ্যে হতে পারে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

প্রসঙ্গত, ইকবালকাণ্ড এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিবার দাবি মাদকাসক্ত ইকবাল। প্রতিবেশীরাও তার সম্পর্কে জানে না ভালো করে। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখা গেছে পেশায় একজন রংমিস্ত্রি তিনি। একসময় সীমান্তপথে চোরাই পণ্য বিক্রির সাথেও জড়িত ছিলেন ইকবাল। ইকবালের মা বিবি আমেনা ও ভাই রায়হানের দাবি, মাদকাসক্ত সে। বখাটেপনার কারণে বিভিন্ন সময় গণপিটুনির শিকারও হয়েছেন ইকবাল।

সপ্তম শ্রেণি পাশ করা ইকবাল বিয়ে করেছে দুবার। আছে দুই সন্তানও। বাড়ি কুমিল্লা নগরীর সাহাপাড়া এলাকায়। পৈতৃক ভিটা বিক্রির পর সেখানকার রবীন্দ্র চন্দ্রের বাড়িতে চার মাস ধরে ভাড়া থাকে তার পরিবার। তাকে নিয়ে তেমন ধারণা নেই বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদেরও। ইকবালের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কিনা, তা জানা যায়নি। কেন সে এমন ঘৃণ্য কাজ করলো তা জিজ্ঞাসাবাদের পরই বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার দিন (১৩ অক্টোবর) রাতে ঘটনার আশপাশের ১২টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। কয়েকটি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে দারোগাবাড়ির মাজারসংলগ্ন মসজিদে প্রবেশ করেন ইকবাল। কথা বলেন মসজিদে থাকা হাফেজ হুমায়ুন ও মাজারের খেদমতকারী ফয়সালের সাথে। রাত ১২টায় সেখান থেকে চলে যান তিনি। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিটে আবার মসজিদে যান তিনি। এরপর কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে পাশের দারোগাবাড়ি মাজার গেট থেকে পুকুরপাড় ধরে এগিয়ে যান তিনি।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাতে হনুমানের গদা কাঁধে নিয়ে দিঘিরপাড়ে ঘোরাফেরা করছেন ইকবাল। তবে মণ্ডপে সিসিটিভি না থাকায় কোরআন রাখার চিত্র দেখা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য, কোরআন শরিফ মন্দিরে রেখে গদা নিয়ে বের হন ইকবাল।

স্থানীয়রা জানান, নানুয়ার দীঘির পাশের ওই মাজারটির নাম শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (র)-এর মাজার। মসজিদ থেকে মণ্ডপ পর্যন্ত হেঁটে যেতে সময় লাগে প্রায় ৫ মিনিট। নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে শুরুতে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ইকবাল হোসেন। পূজামণ্ডপটিতে শুরুতে ইকবাল লোকজন দেখে মিশন সফল না করে ফিরে আসেন। পরে তিনি চকবাজার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক মোড় ঘুরে পূজামণ্ডপের দিকে রওনা হন। এ সময় তার সঙ্গে দুজন নৈশপ্রহরীর দেখা হয়। তাদের সঙ্গে ইকবালের কথাও হয়। এরপর ইকবাল পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে ডিগাম্বরীতলা সড়ক দিয়ে নানুয়া দিঘির পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেন। ওই সময় সেখানে লোকজন না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফ রেখে যান।

পরে সকালে একজন ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর ফেসবুক লাইভ আর কিছু মানুষের উত্তেজনা ও হৈচৈয়ের মধ্যেও হাত নাড়তে দেখা যায় এই আলোচিত যুবক ইকবালকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে সময়ে সময়ে। নগরীর কান্দিরপাড়, চকবাজার, মনোহরপুর, ঠাকুরপাড়া এলাকায় উত্তেজিত জনতা মিছিল শ্লোগান আর হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামে পুলিশ বিজিবি ও র‍্যাব। দাঙ্গার আগুনে জ্বলতে থাকে বহু জনপদ।

ঘটনার আট দিন পর গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকত এলাকা থেকে ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এম তানভীর আহমেদ জানান, তার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মূল ভূমিকা পালন করেছে কিনা তা তদন্তে জানা যাবে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply