ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে হিব্রু অনুবাদে ‘না’ আইরিশ লেখিকার

|

ইসরায়েল থেকে প্রকাশকের প্রস্তাব ছিল নিজের সবশেষ লেখা উপন্যাসের হিব্রু অনুবাদ বের করার। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদস্বরূপ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন আইরিশ লেখিকা স্যালি রুনি।

প্রস্তাবটি গ্রহণ করাকে নিজের কাছে ঠিক মনে হয়নি মন্তব্য করে স্যালি রুনি বলেন, এমন কোনো ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে চাই না, যারা সরাসরি ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিপক্ষে কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের জাতিসংঘ-সমর্থিত অধিকারের পক্ষে দাঁড়ায় না।

৩০ বছর বয়সী এই লেখক অবশ্য এই প্রস্তাবকে তার বই ‘অ্যা বিউটিফুল ওয়ার্ল্ড, হোয়্যার আর ইউ’-এর জন্য ‘সম্মানের’ বলেই মনে করছেন। তবু তিনি অনড় ইসরায়েলি প্রকাশককে তার বইয়ের অনুবাদসত্ত্ব প্রদান না করতে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালিত সাংস্কৃতিক বয়কটের আন্দোলনেও সমর্থন আছে লেখকের।

লেখকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। জাতীয় পরিচয়ের কারণে কোনো পাঠকগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা উচিত নয়- এমনটাই মন্তব্য জ্যুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গিতিত লেভি-পাজের।

অন্যদিকে মার্কিন সমালোচক রুথ ফ্র্যাংকলিন বলেছেন, স্যালি রুনির বই তো চীনা ও রাশিয়ান ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে। তবে কি উনার উইঘুর হত্যা কিংবা পুতিন কর্তৃক সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে কোনো ভাবনা নেই?

কিন্তু স্যালি রুনির সাফ বক্তব্য, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে জাতিগত আধিপত্য ও বৈষম্যমূলক বিভাজন চালাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্টত বিরুদ্ধাচরণ।

উল্লেখ্য, স্যালি রুনির লেখা বই ‘অ্যা বিউটিফুল ওয়ার্ল্ড, হোয়্যার আর ইউ’ সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে বেস্টসেলারের তকমা পেয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।

পশ্চিম আয়ারল্যান্ডের ক্যাসলবারে জন্ম নেয়া স্যালি রুনি অসম্ভব জনপ্রিয় তার জঁরায়। মূলত প্রেমাতুর তারুণ্যই তাই লেখালেখির মূল বিষয়বস্তু। তার লেখা বই ‘নরম্যাল পিপল’ ২০১৮ সালে বুকার প্রাইজের মনোনয়নতালিকায় নাম লিখিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে বইটির প্রায় দশ লাখেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। এই বইটি থেকেই নির্মিত হয়েছিল পুরস্কার-জয়ী টেলিভিশন ড্রামা।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply