‘জঙ্গি আতঙ্কের মধ্যে’ আকাশে ১০ ঘণ্টা

|

সিলেট ব্যুরো

জঙ্গি আতঙ্ক নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট সিলেটে এসেছে। তবে পাইলট ও ক্রু’রা সন্দেহজনক ওই পরিস্থিতিতেও যাত্রীদেরকে আতঙ্কমুক্ত রেখে ১০ ঘণ্টা ফ্লাইট চালিয়ে নিরাপদে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে সক্ষম হয়েছেন।

সূত্র জানায়, সন্দেহজনক জঙ্গির বিমানে অবস্থানের তথ্যটি জানানো হয়েছিলো বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারেও। আতঙ্কের মধ্যে বিমানটি অবতরণের আগেই ওসমানী বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ পুলিশ-র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হন। যে কোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে অতবরণের পর ৩ ঘন্টা তল্লাশি শেষে জানা যায়, বিমানটি নিরাপদ।

ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে। এক ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি জার্মানি অতিক্রম করার সময় হিথ্রো বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে একটি বার্তা দেয়া হয়। সেই সাথে ৩টি ইমেইল পাঠানো হয় বিমানটির গন্তব্যস্থল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে।

বার্তায় বলা হয়, বিমানের কোন জঙ্গি যাত্রীবেশে বোমা বহন করে থাকতে পারে। তবে এও বলা হয়, সন্দেহটা অত জোরালো নয়। বার্তা পাওয়ার সাথেই জরুরি সংবাদটি ফার্স্ট অফিসার আরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কেবিন ক্রু চিফ পার্সার ডলিকে বিষয়টি অবগত করেন ফ্লাইট ক্যাপ্টেন ইসমাইল।

দুই পাইলটের নির্দেশনায় ডলি তার ক্রুদের নির্দেশ দেন ফ্লাইটের সকল যাত্রীকে নীরবে নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে। এর মধ্যে পাইলট ক্যাপ্টেন ইসমাইল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিমানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করেন। এভাবেই চাপা আতঙ্কে কাটে ১০ ঘন্টা । প্রথমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ।

এদিকে বার্তা পাওয়ার পর থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানটি অবতরণের সাথে সাথেই সেটি ঘিরে ফেলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে নামিয়ে আনা হয় সকল যাত্রীকে। পরে পুরো বিমান প্রায় তিন ঘণ্টা ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি করা যাত্রীদেরও। শেষ পর্যন্ত কিছুই মিলেনি। বেলা ১টার দিকে বিমানটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে এটি ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করে।

এর আগে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের অন্য একটি ফ্লাইটে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে বিমানের স্থানীয় কর্মকর্তারা কিছু বলতে চাননি।

ওসমানী বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি স্বীকার করেন।

বাংলাদেশ বিমানের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার মো: শাকিল মেরাজ যমুনা নিউজকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, এ রকম বার্তা পেলে সব সময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। বার্তা পাওয়ার সাথে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কিন্তু তল্লাশি শেষে এ ধরনের কিছু খুজে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। 









Leave a reply