সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতে ফাইনালে সাকিবের কেকেআর

|

ছবি: সংগৃহীত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চতুর্দশ আসরের ফাইনালে উঠেছে সাকিব আল হাসানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আসরের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সাকিবরা ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে। যে ম্যাচটা এক সময় মনে হচ্ছিল যে, চেষ্টা করলেও হারতে পারবে না কেকেআর, সেখান থেকেই হারের কিনারায় গিয়ে রাহুল ত্রিপাঠির ব্যাটে জয় পায় নাইট রাইডার্স।

আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে দিল্লি। জবাবে শেষ ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ১ বল হাতে রেখে কলকাতার জয় নিশ্চিত করেন রাহুল ত্রিপাঠি। কাল (১৫ অক্টোবর) ফাইনালে চেন্নাইয়ের মুখোমুখি হবে সাকিবের কলকাতা।

শারজায় টস হেরে ব্যাট করতে নামে দিল্লি ক্যাপিটালস। এদিনও বোলিং আক্রমণের শুরুটা হয় সাকিব আল হাসানের হাত ধরে। ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন শিখর ধাওয়ান ও পৃথ্বী শ। আসরের অন্যতম সেরা বোলিং ইউনিট কেন বলা হয় কলকাতাকে, তা আরও একবার এই ম্যাচে দেখালেন বরুন, নারিন, সাকিব, মাভিরা। মারকুটে স্টয়নিস, ধাওয়ান, রিশাভ পান্তরা পাননি আলগা বল। চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভুল শট সিলেকশন, আর একেক পর উইকেটের পতন-এমনই ছিল দিল্লির ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন শিখর ধাওয়ান, ৩৯ বলের মোকাবেলায়। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ২৭ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। নাইটদের হয়ে সাকিব ৪ ওভার ২৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ক্যাচ মিস না হলে উইকেট পেতে পারতেন তিনি। বরুণ চক্রবর্তী নেন ২ উইকেট।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলকাতাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন নাইটদের দুই ওপেনার ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ও শুবমান গিল। পাওয়ার প্লেতে দুজনে তুলে ফেলেন ৫১ রান। এরপর দলকে এগিয়ে নেওয়ার সাথে ৩৮ বলে ফিফটি তুলে নেন আইয়ার। ৯৬ রানের জুটিতে ৫৫ রান করে ফেরেন আইয়ার।

পরবর্তীতে গিল ৪৬ রান করে ফিরলে শেষ দিকে দ্রুতই ফেরেন নিতিশ রানা-কার্তিকরা। কলকাতার ম্যাচ জয় যখন মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার, তখনই ম্যাচের যাত্রা মোড় নেয় এক অভাবনীয় নাটকীয়তায়। ২৫ বলে দরকার ১৩ রান, হাতে ৯ উইকেট; এমন এক পরিস্থিতি থেকে ২ বলে ৬ রানের সমীকরণে কলকাতাকে নিয়ে দাঁড় করায় দিল্লি। কারণ এর আগের ২৩ বলেই যে মাত্র ৭ রান তুলতে পেরেছে কলকাতা, আর হারিয়ে ৬টি উইকেট! শেষ ১২ বলে যখন ১০ রান প্রয়োজন তখন নেমে ৩ বলে ০ রানে আউট হন অধিনায়ক মরগ্যান। শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৭ রানে।
প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে সাকিবকে স্ট্রাইক দেন ত্রিপাঠি। দুই বল খেলে অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে খালি হাতে ফেরেন সাকিব।

এরপর নারিন ফেরেন প্রথম বলেই। তিনি ক্যাচ আউট হওয়ায় স্ট্রাইক পেয়ে যান ত্রিপাঠি।

শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রানের। পঞ্চম বলটিকেই ছক্কা বানিয়ে ১ বল আগেই কলকাতার জয় নিশ্চিত করেন রাহুল। ১১ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply