শেখ সেলিমদের হাত এত লম্বা, ওনারা আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে: কাদের মির্জা

|

কাদের মির্জা। ছবি: সংগৃহীত।

এবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের পৌরমেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রচার আছে, শেখ সেলিম ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত। আজকে ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। শেখ সেলিমদের হাত এত লম্বা, ওনারা আজকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শনিবার (২ অক্টোবর) রাত আটটায় নিজের ফেসবুক পেজের ৩১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের লাইভে এসে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা।

তিনি বলেন, শেখ সেলিম সাহেব শেখ পরিবারের লোক। আমাদের দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য। একসময় মন্ত্রী ছিলেন। কী কারণে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন, জানি না। উনি গোপালগঞ্জ থেকে ভোট করেন। সেখানে ৯৫ ভাগ আওয়ামী লীগ করে। নোয়াখালী এসে নির্বাচন করলে জামানত পাবেন কি না, আমি জানি না। সারা বাংলাদেশে প্রচার আছে, উনি ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত। আজকে ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। শেখ সেলিমদের হাত এত লম্বা, ওনারা আজকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিজের প্রতিপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শেখ সেলিমের সাথে দেখা করেছেন উল্লেখ করে কাদের মির্জা বলেন, আমাদের এলাকার অপরাজনীতির হোতা সেই ছেলে (মিজানুর রহমান) পঙ্গুত্বের অভিনয় করে সেলিমের কাছে গেছেন। সেলিম সাহেব নাকি ডিআইজিকে বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। আপনার মতো একজন জাতীয় নেতা কিছু যাচাই না করে কেন আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন? বাংলাদেশে এখন একটা কথা আছে, অপরাজনীতির হোতাদের শেল্টার দিচ্ছেন শেখ সেলিম সাহেব। আমি আহ্বান জানাব, নেতৃত্বে আছেন নেতৃত্ব সুলভ আচরণ করেন। আপনারা কী করেন সবাই জানে।’

ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে কাদের মির্জা বলেন, আপনাদের মাথায় ঢুকেছে জোর করে ভোট নিয়ে আপনারা আবার পরবর্তী সরকার গঠন করবেন। এটা কি রাজনীতি? ভোট চুরি করে বঙ্গবন্ধু নেতা হয়েছেন? ভোট চুরি করে বঙ্গবন্ধু কি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন? এলাকার সাথে সম্পর্কের দরকার নাই। ওবায়দুল কাদের সাহেব আজকে কয় বছর এখানে আসেন না? এলাকার খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন নাই। অন্য এমপিদের অবস্থাও একই। দুই-চারজন এলাকায় আসে টিআর–কাবিখার টাকা, রাস্তার কাজের ভাগ নেওয়ার জন্য।

কাদের মির্জা নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলামের উদ্দেশে বলেন, আমারে আপনি কোণঠাসা করবেন। আমার কর্মীদের গ্রেফতার করবেন। হত্যা করবেন। আলমগীর সাহেব তো দরজা পাইছে যাইবার লাই। আপনি পালাবার দরজা খুঁজে পাবেন না। সাবধান। ভানুমতীর খেল আমাকে দেখাইয়েন না। আমার কর্মীর ওপর হাত দিয়েন না। এগুলো বন্ধ করেন।

কাদের মির্জা বলেন, আপনাদের ওবায়দুল কাদের ভয় পেতে পারেন, কারণ তিনি তো মানুষের হৃদয়ে নাই। দক্ষিণ এলাকার মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে রাস্তার ওপর বসবাস করছে। গত দুই বছরে কোম্পানীগঞ্জে তিনি কোনো উন্নয়ন করেননি। ওনার লোকজন সারা দিন ব্যস্ত নারী নিয়ে। চাকরি দিবে বলে নারীদের এনে তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে আর খবর নাই। ওনার লোকজন টাকা ও নারী নিয়ে ব্যস্ত। ওবায়দুল কাদের সাহেব ওনার স্ত্রীর কথায় ঘুমিয়ে আছেন।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply