আলোচিত প্রিয়া হত্যাকাণ্ডের নতুন মোড়, সন্দেহভাজন মায়ের প্রেমিক

|

চাঁদপুরের আলোচিত নওরোজ আফরিন প্রিয়া (২১) হত্যায় জড়িত সন্দেহে প্রিয়ার মায়ের প্রেমিক হান্নানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে হান্নানকে আদালতে প্রেরণ করে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। বুধবার বিকেলে শাহরাস্তি থানা পুলিশ প্রিয়ার মায়ের প্রেমিক দেবকরা গ্রামের আ. হান্নানকে (৩১) গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে নওরোজ আফরিন প্রিয়াকে (২১) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চাঁদপুরসহ সারাদেশে আলোড়ন শুরু হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে প্রিয়ার মা তাহমিনা সুলতানা রুমি ও আ. হান্নানের পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনার পর হান্নান সৌদি আরব চলে যায়। প্রিয়া হত্যার একমাস আগে হান্নান দেশে আসে। প্রিয়া হত্যার সাথে হান্নান জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

প্রিয়া ও হান্নানদের বাড়ি পাশাপাশি। প্রিয়ার বাবা বিদেশে থাকার সুবাদে ৫/৬ বছর আগে প্রিয়ার মা রুমির সাথে হান্নানের অবৈধ পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের প্রেমের ঘটনা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে প্রিয়া নিজেই একদিন আপত্তিকর অবস্থায় তাদের ধরে ফেলে। পরে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। রুমির স্বামী ইসমাইল হোসেন স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে সৌদি আরব থেকে জানতে পেরে তার সাথে ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠকের পর বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। এরপর হান্নান বিদেশে চলে যায়। পরে প্রিয়া হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে হান্নান দেশে ফেরে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আ. হান্নানকে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, প্রিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে হান্নানকে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে প্রিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, নিহত প্রিয়ার ১৮ মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে। ওই শিশুটির জন্য ওষুধ আনতে প্রিয়ার মা পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন, পরে বাসায় ফিরে তিনি প্রিয়ার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। ঘটনার পরদিন প্রিয়ার মা শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply