ডাল ভেঙে মাথায় পড়বে তাই কেটে ফেলা হলো ঢাবির ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণচূড়া

|

অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে কলাভবনের সামনের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণচূড়া গাছটি কেটে ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মানুষের গায়ের উপর ডাল-পালা ভেঙে পড়বে; এমন উদ্ভট অজুহাতে কেটে ফেলা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের কৃষ্ণচূড়াসহ বেশ কয়েকটি গাছ। কলাভবন ও ডাকসুর মাঝে থাকা এ কৃষ্ণচূড়া গাছ অনেকের স্মৃতি বিজড়িত। এমন স্মৃতি বিজড়িত গাছ কাটার বিরুদ্ধে ক্ষোভ-প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঐতিহ্যবাহী এসব গাছ কাটার পেছনে বড় কোনো যুক্তি দেখাতে পারেনি ক্যাম্পাস প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে কৃষ্ণচূড়া দেখে আপ্লুত হননি, এমন শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে না। অপরাজেয় বাংলা থেকে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, মধুর ক্যান্টিন বা ডাকসুতে যাওয়ার পথে এ কৃষ্ণচূড়া তলার সৌন্দর্যে বিমোহিত হননি এমন মানুষ নেই বললেই চলে। কিন্তু, কৃষ্ণচূড়ার সেই লাল আভা আর দেখা যাবে না।

কলাভবনের সামনে কৃষ্ণচূড়ার এমন মোহনীয় সৌন্দর্য আর দেখা যাবে না।

কলাভবনের প্রক্টর অফিস সংলগ্ন রাস্তা সংস্কারের উদ্দেশ্যে কেটে ফেলা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণচূড়া গাছটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিদ্ধান্তে,
গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে গাছ কাটা শুরু হয়। ইতোমধ্যে একটি কৃষ্ণচূড়া ও দুটি ইউক্যালিপটাস কাটা পড়ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে, বহু স্মৃতি বিজড়িত কৃষ্ণচূড়া গাছটি কাটার এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই নাকি এই সিদ্ধান্ত!

গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন ফোনে যমুনা টেলিভিশনকে জানান, কোনো উন্নয়নের অংশ নয়, বর্ষা মৌসুমে গাছটি ঝুঁকে পড়ায় আমরা গাছটি কাটার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। যারা কেটেছে তারা আমাদের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী গাছটি কেটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ কাটা ও রোপণ নিয়ে কাজ করে একটি কমিটি। সেই গাছ কাটা ও নিলাম-শীর্ষক কমিটির প্রধান জানান, কৃষ্ণচূড়া গাছ কাটা হলেও, প্রক্টর অফিস গেটের পাশে বাগান করা হচ্ছে। সেগুলো আস্তে আস্তে বড় হলে আবার আগের চিত্র দেখা যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ কাটা ও নিলাম কমিটির মুখপাত্র মিহির লাল যমুনা টেলিভিশনকে বলেন, ওইটা (কৃষ্ণচূড়া গাছ) খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো, এতটাই ঝুঁকে পড়েছিলো যে ওখানকার সয়েলের স্ট্র্যাকচার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলো হয়তো বৃষ্টি হলে এমনিই পড়ে যেত। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি মুক্ত করতেই এ সিদ্ধান্ত। আর পরিবেশ বান্ধব না হওয়ায় ইউক্যালিপ্টাস গাছগুলো আরও আগেই কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো।

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। গাছ কাটা নিয়ে যতো তোড়জোড় করে প্রশাসন; বৃক্ষরোপণ আর ক্যাম্পাস সবুজ রাখতে তৎপরতা সে তুলনায় খুবই কম বলেই অভিযোগ সবার।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply