শান্তিতে ‘ইগ নোবেল’ পেলেন ঘুষির ওপর গবেষণা করে

|

উদ্ভট বিষয়ে গবেষণায় উদ্ভট পুরস্কার ইগ নোবেল। ছবি: সংগ্ররহীত

ঘুষির আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্যই বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মুখে দাড়ি গজিয়েছে কিনা? এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করে এথান বেসারিস ও সঙ্গীরা শান্তিতে ‘ইগ নোবেল’ পুরস্কার জিতেছেন। উদ্ভট সব গবেষণার জন্য মোট ১০টি বিষয়ে এই পুরস্কার দেয়া হয়। ‘ইগ নোবেল’ প্রতিযোগীতায় গবেষণার বিষয় যেমন উদ্ভট পুরস্কারও তেমনই উদ্ভট।

বিজ্ঞানভিত্তিক রম্য পত্রিকা ‘অ্যানালস অব ইমপ্রোব্যাবল রিসার্চ’ এই ইগ নোবেল পুরস্কার দিয়ে থাকে। মোট ১০টি বিষয়ের উপর ইগ নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

শান্তি ছাড়া অন্য আরও যারা এ পুরস্কার পেয়েছেন, তারাও কম যান না উদ্ভট বিষয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে। এক দল গবেষকের গবেষণার বিষয় ছিল, সাবমেরিনের মধ্যে তেলাপোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের উপায় কী। ফুটপাতে আটকে থাকা চুইংগামের ভেতরে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন আরেক দল।

এই ব্যঙ্গাত্মক নোবেল পুরস্কার আসল নোবেল পুরস্কারের মত বিখ্যাত না হলেও একেবারে অখ্যাতও নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আসল নোবেল-পুরস্কারপ্রাপ্তরা ইগ নোবেল বিজয়ীদের পুরস্কার দেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার অবশ্য এই মজার অনুষ্ঠানটি হয়েছে অনলাইনে। এবারের ইগ নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যে আসল নোবেল বিজয়ীরা উপস্থিত ছিলেন ২০১৮ সালের রসায়নে নোবেল জয়ী ফ্রান্সে আর্নল্ড, ২০০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী কার্ল ওয়েইম্যান এবং ২০০৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী এরিক ম্যাসকিন।

ইগ নোবেলজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন, একটি পিডিএফ প্রিন্ট-আউট যা জোড়া দিয়ে তাদের নিজেদেরই ট্রফি বানিয়ে নিতে হবে। এছাড়াও ছিল নগদ অর্থ হিসেবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি জিম্বাবুয়েইয়ান জাল ব্যাংক নোট।

আরও যারা ২০২১ সালের ইগ নোবেল পুরস্কার জিতেছেনঃ-

জীববিজ্ঞান: সুজান শটৎস। বিড়াল ও মানুষের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য ম্যাওম্যাও, গরগর, হিসহিস ইত্যাদি নানা রকম শব্দ ছিল তাদের গবেষণার বিষয়।

পরিবেশ: লেইলা সাটারি ও তার সঙ্গীরা। বিভিন্ন দেশের ফুটপাতে আটকে থাকা চুইংগামের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার জিনগত গঠন বিশ্লেষণ ছিল তাদের গবেষণার বিষয়।

রসায়ন: ইয়র্গ ভিকার ও সঙ্গীরা। সিনেমা হলের ভেতরের বাতাসের গন্ধের রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং তা থেকে দর্শকরা যে ছবিটি দেখছেন সেটাতে যৌনতা, সহিংসতা, মাদক ব্যবহার বা খিস্তির মাত্রা সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া যায় কিনা; সেটি জানাই ছিল তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য।

অর্থনীতি: পাবলো ব্লাভাটস্কি। তিনি আবিষ্কার করেছেন যে কোন একটি দেশের রাজনীতিবিদরা কতটা মোটা, তা থেকে দেশটির দুর্নীতির মাত্রার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

পদার্থবিজ্ঞান: আলেসান্দ্রো করবেটা ও সঙ্গীরা। গবেষণার বিষয়: পথচারীদের কেন সব সময় অন্য পথচারীদের সাথে ধাক্কা লাগে না।

চিকিৎসাশাস্ত্র: ওলকাই চেম বুলুট ও তার সঙ্গীরা। তারা দেখিয়েছেন যে সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে তা সারাতে যৌনতৃপ্তি যে কোন ওষুধের মতই কার্যকর।

গতিবিদ্যা: হিশাসি মুরাকামি ও সঙ্গীরা। তাদের গবেষণার বিষয়: কেন পথচারীদের সাথে মাঝে মাঝে অন্য পথচারীদের ধাক্কা লাগে।

কীটতত্ত্ব: জন মালরেনান ও সঙ্গীরা। সাবমেরিনের ভেতরে তেলাপোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন তারা।

পরিবহন: রবিন র‍্যাটক্লিফ ও সঙ্গীরা। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল, গণ্ডারকে উল্টো করে ঝুলিয়ে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া কতটা নিরাপদ।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply