“হয়তো অপ্রত্যাশিত কিন্তু অপ্রয়োজনীয় নয়”

|

নারী দিবস পালনের পেছনে আছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের অনন্য এক সংগ্রামের ইতিহাস। শুরুতে নামটা ছিল আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। ভালই হয়েছে কর্মজীবী শব্দটি বাদ পড়েছে। কেননা ঘরে বাইরে নারী মাত্রই কর্মজীবী, আলাদা করে বলার কিছু নেই।

দিবসটি পালনে পাল্টাপাল্টি যুক্তি আছে। নারী দিবস পালন মানেই নারীদের জন্য এই একটি দিন, বাকি ৩৬৪ দিন পুরুষের- এমন ভাবনা অনেকের। আলাদা দিনের আবার কি প্রয়োজন!!! হুম কথা সত্য কিন্তু বাস্তবতা কি বলে???? আসলেই কি ৩৬৫ দিনই নারীদের জন্য স্বস্তির???

কাঁচা মাথায় কিছু যুক্তি খেলা করে। স্বাধীনতা দিবস পালন মানেই কি ওই একটি দিন আমরা স্বাধীন আর বাকি দিন পরাধীন। তা নয়, একটি ঐতিহাসিক অর্জনের দিনকে আমরা স্মরণ করি। প্রত্যাশা তো প্রতিটি দিনই হবে সব মানুষের। কিন্তু প্রাপ্তির হিসেব নিয়ে বসলে দেখা যাবে উপভোগের ক্ষেত্রে বছরজুড়ে পুরুষের পাল্লা ভারি। নারীদের একেকটি দিন যেন একেকটি যুদ্ধ ক্ষেত্র। ঘরে বাইরে চলছে টিকে থাকার লড়াই।

৭ মার্চে অদিতি মেঘলার মতো আরও অনেকের স্ট্যাটাস পড়লাম। সত্য মিথ্যা জানি না, বুঝি না; তবে ভিড় ভাট্টায় মেয়ে দেখলেই যে পুরুষের পৈশাচিক রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, এটা তো জানা। গণপরিবহনে নাকি ৯৪ শতাংশ নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হন। ছোট্ট মেয়ে শিশুটিও যেন নিরাপদ নয় পুরুষের কুদৃষ্টি থেকে। স্বামীর বিরুদ্ধে অন্তঃস্বত্ত্বা নারীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ শুনলাম সেদিন। আরও কত শত নারীর অসহায় জীবন কাহিনী আছে, যা হয়তো নিভৃতেই কেঁদে ফিরছে। তাহলে হয়েছে কি নারীর সম অধিকার প্রতিষ্ঠিত??? তাই বলছি অপ্রত্যাশিত হলেও নারী দিবসের প্রয়োজনীয়তা এখনও আছে।

আর সংসার ধর্ম পালনে নারী পুরুষ কার অবদান কতটুকু সে ব্যাখ্যায় না-ই বা গেলাম। কে কতটা বিশ্রামের সুযোগ পান সেটাও সবার জানা। সংসার সামলে ছোট্ট সন্তানকে সামলে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে খানিকটা দেরি হলেই হয়তো শুনবেন, আপনারা সংসারই করেন চাকরি করতে আসছেন কেন? আবার অফিসের কাজ সেরে একটু দেরিতে ফিরবেন বাসায়; তবেই হয়েছে! কাজ সংসার ধর্ম গেল গেল! কিন্তু না এই একটি দিনের চিত্রপট ভিন্ন। আহা কত সুন্দর করে বলা হয়- “নারী ঘর সামলে কর্মক্ষেত্রেও পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে”।

আকাশে বাতাসে আজ নারী বন্দনা। হোক না! খারাপ কি! সৌজন্যের খাতিরে হলেও নারী বন্দনা করতে করতে হয়তো পুরুষ মেনে নেবে, মনেও নেবে নারীর অবদান। আর তাছাড়া ১৮৫৭ সালের নারীর সম অধিকার আদায়ের সেই গৌরবোজ্জল আন্দোলন স্মরণে, যদি একটি দিন পালন করা হয় তাতে কি এমন আসে যায়। নারী দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে, আর ১৯ নভেম্বর পুরুষ দিবসের আগাম শুভেচ্ছা

বি:দ্র- ব্যতিক্রম মানুষও (পুরুষ) আছেন যারা নারী পুরুষ ভেদাভেদ করেন না। আর সচেতন হচ্ছে নারীও। তাইতো দিন বদলের অপেক্ষায় যেদিন আর ঘটা করে পোশাকি দিবস পালিত হবে না।

মৌসুমী আক্তার লোপা: গণমাধ্যম কর্মী









Leave a reply