‘স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হয় না’

|

যে দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় যায় সেদেশের উন্নয়ন হয় না। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। যুদ্ধাপারাধী, খুনিরা আর কোন দিন যেনো ক্ষমতায় আসতে না পারে তারও আহ্বান জানান তিনি।

জনসভা উপলক্ষে কানায় কানায় মানুষে পুর্ণ ছিলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ১৯৭১ এ এখান থেকেই অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আজ ৪৭ বছর পর ওই একই জায়গায় তার কন্যা শেখ হাসিনা। একই রকম মানুষের ঢল পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে। সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর এনে দেয়া দেশ আজ তারই পদাঙ্গ অনুসরণ করে চলছে। শিগগিরই জায়গা করে নিচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বাংলাদেশ মাথা উচু করে এগিয়ে যাবে। আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ দেশের, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের উন্নয়ন।

৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,  জাতির পিতা শুধু বাংলার মানুষকে ভালোবেসেছিলেন, বাংলার মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন।  বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আজ বিশ্ব স্বীকৃতির দলিল। এ ভাষণ লিখিত ছিলোনা, এ ভাষণ জাতির পিতার মনের ভিতর ছিলো। এ ভাষণে মুক্তিযুদ্ধে কি কি করণীয় তা বলে দিয়েছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণে শুধু স্বাধীনতার কথা বলেন নাই অর্থনৈতিক মুক্তির কথাও বলেছেন। বঙ্গবন্ধু সাড়ে ৩ বছরে একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের কারণেই আমরা ২১ বছর পর সরকার গঠন করতে পেরেছি। ৯৬-২০০১ ছিলো বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্বর্ণযুগ। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।  জনগণের স্বার্থ দেখেছি বলেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।

বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, বিএনপি দেশকে নরকে পরিনত করেছিলো। খালেদা জিয়ার উৎসব ছিলো মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসে। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। এরা জাতির পিতার নামটাই ইতিহাস থেকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারেনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি। আজকে বাংলার মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে। আমরা কারো কাছে মাথানত করে চলবোনা। বাংলাদেশ দরিদ্র থাকবোনা। জাতির পিতা যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছে তা তৈরি করবো।

জনগণকে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,  জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক যেনো যুব সমাজকে নষ্ট করতে না পারে।  সেজন্য আপনারা সজাগ থাকবেন। যুদ্ধাপরাধী, খুনি, যারা এতিমের টাকা লুট করে তারা যেনো আর কোন দিন ক্ষমতায় আসতে না পারে।  যারা মুক্তিযুদ্ধে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে তারা এব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। আশ্রয় দিয়ে ্আমরা মানবতার পরিচয় দিয়েছি। এজন্য সারাবিশ্ব আমাদের সাথে আছে, আমাদের সম্মান করে।

ভাষণের শেষের দিকে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা গ্রামেগঞ্জে পাড়া মহল্লায় আমরা যে উন্নয়নের কাজ করেছি তা তুলে ধরবেন

জনসভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু প্রমুখ।









Leave a reply