ধাক্কা দিয়ে গাড়ির নিচে ফেলে ‘হত্যা’, নিহত কিশোরের নামে ডাকাতির মামলা

|

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিয়াজ উদ্দীন নামের ওই ব্যক্তি নিহত কিশোর জয়ের গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিয়ে একটি চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেয়।

পুরান ঢাকার উর্দুরোডে গাড়িচাপায় নিহত হয় জয় নামের একজন কিশোর। ছিনতাই করে পালানোর সময় সে গাড়ির ধাক্কায় মারা যায় বলে মামলা করে রিয়াজ উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি। পুলিশও বলছে এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। তবে ঘটনাটিকে হত্যা বলে অভিযোগ করেছে নিহতের স্বজনরা।

এ ঘটনায় রিয়াজ উদ্দীন ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের করলেও আসামি ছয় জন হওয়ায় এটিকে ডাকাতির মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ।

৭ আগস্ট, চকবাজারের কমলদাহ রোড। রাত পৌনে নয়টা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিয়াজ উদ্দীন নামের ওই ব্যক্তি নিহত জয়ের গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিয়ে একটি চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেয়। গাড়িটির পেছনের চাকা থেঁতলে দেয় জয়কে। দেখা যায় আরেক জন এসে জয়কে তোলার চেষ্টা করছে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় ওই কিশোর। এ ঘটনায় জয়সহ ছয় জনের নামে ছিনতাইয়ের মামলা করেছেন রিয়াজ উদ্দীন। পুলিশ গ্রেফতারও করেছে বাকিদের।

তবে জয় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি তার পিতা জুম্মনের। তার অভিযোগ এটি হত্যা। যমুনা টেলিভিশনকে তিনি বলেন, একটা বাচ্চার সাথে একজন প্রাপ্তবয়স্কের কোনো রেষারেষি থাকতে পারে না। বরং ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী রিয়াজ উদ্দীনই এলাকায় ‘চোট্টা রিয়াজ’ বলে পরিচিত বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাইয়ে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় নবকুমার ইন্সিটটিউটের ছাত্র আকিবকে। স্কুলের সার্টিফিকেট অনুয়ায়ী তার বয়স আঠারো না হলেও তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে পুলিশ স্বীকারোক্তি আদায় করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। স্বজনদের দাবি আকিব গাড়ি চাপা দেয়া জয়কে উদ্ধার করতে গিয়েছিল।

তবে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন হাওলাদারের দাবি, বয়স যাচাই ছাড়া কোর্টে চার্জশিট দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

যে স্থানে ঘটনা সেখানে আছে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি। ওই দিন সড়কে ছিলেন আরও অনেকে। কিন্তু পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী বা স্বজনদের কারো সাথেই কথা বলেনি বলেও রয়েছে অভিযোগ।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, রিমান্ডে বা বড় কোনো মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে পুলিশ।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply