বিদিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা করে এরশাদের বিপুল অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ

|

এরশাদের তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা।

প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশার বিরুদ্ধে। বিয়ের আগেই বিদিশা এরশাদের তিন দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার দুবাই হয়ে লন্ডনে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির সাবেক হুইপ এস এম রেজা। এছাড়া এরশাদ ট্রাস্টের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ উঠেছে বিদিশার বিরুদ্ধে।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা বলছেন, এরশাদ তার প্রেমে অন্ধ হওয়ার সুযোগ নেন বিদিশা। একের পর এক হাতিয়ে নিতে থাকেন অর্থ ও সম্পদ।

জাতীয় পার্টির সাবেক হুইপ ও এরশাদের ঘনিষ্ঠজন এস এম রেজা বলেন, এরশাদ সাহেব বেঁচে থাকাকালীন যেভাবে সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে সেটিরই একটি অংশ হিসেবে সে (বিদিশা) এখন ভেবেছে এই জাতীয় পার্টির আঙিনায় যেসব ধন-সম্পদ আছে সেগুলোও এখন হাতিয়ে নিতে পারবে, অনায়াসে। সেজন্য নতুন পরিকল্পনায় নেমেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এরশাদের সাথে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার পর থেকেই বিদিশার নজর পড়ে এরশাদের সুইস ব্যাংকের টাকায়। বিয়ের আগেই ২০০১ সালের ২২ মে এরশাদের চিঠির প্রেক্ষিতে আবুধাবির ন্যাশনাল ব্যাংকে এরশাদের একাউন্ট থেকে তিন দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে সমপরিমাণ টাকা লন্ডনের ন্যাশনাল ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্যাংকে বিদিশার নামে খোলা একাউন্টে স্থানান্তর হয়। এসবের দালিলিক প্রমাণ নিজের কাছে আছে বলে যমুনা নিউজের কাছে দাবি করেন জাতীয় পার্টির সাবেক হুইপ এস এম রেজা।

তিনি বলেন, সেই কাগজপত্র হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজে আমার হাতে দিয়েছেন। সেগুলো আমি রংপুর আদালতে দিয়েছি, মহামান্য হাইকোর্টে দাখিল করেছি। সেই কাজপত্র বর্তমান সুপ্রীম কোর্টে বিচারাধীন আছে।

জাতীয় পার্টির সাবেক এই এমপির দাবি, স্বল্প সময়ে অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হওয়ায় বিদিশার আয়ের উৎস জানতে চায় ন্যাশনাল ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্যাংক। তখন টাকা রক্ষার কথা বলে চাপে ফেলে এরশাদকে বিয়ে করেন বিদিশা। এরপর ২০০৩ সালে বিদিশা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান, তার স্বামী এরশাদ বাংলাদেশে জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন।

এই নেতা বলেন, বিদিশাকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৩.৭ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন এটি আমি আদালতে দিয়েছি। এছাড়া ৪ লাখ ৮৮ হাজার পাউন্ড তিনি বিদিশার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেছেন যার মূল কাগজ আমি আদালতে উপস্থাপন করেছি।

এস এম রেজা বিদিশার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের সাথেও প্রতারণার অভিযোগ তোলেন। বলেন, এরশাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকায় ২৯ এডিসন কোর্ট, হোপ স্ট্রীট ও ১১৬ ক্রাউনওয়েলে বিলাসবহুল বাড়ি কিনলেও তার আগের ঘরের সন্তান ও স্বামী পিটার স্টুয়ার্ট হুইসনকে সরকারি বাসায় রেখেছেন রাজনৈতিক আশ্রয়ের মাধ্যমে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এরশাদের টাকা দিয়ে বিদিশা লন্ডনে দুইটি বাড়ি কিনেছে। কিন্তু ওর স্বামী আবার কাউন্সিল ফ্ল্যাটে থাকে। সেখানে মামলাও হয়েছে। সে মামলাও বিচারাধীন আছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে এরশাদের তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা বলেন, একটা মানুষই তো আমার নামে অভিযোগ করেছে। আর কেউ তো আমার নামে অভিযোগ করেতে দেখিনি আজ পর্যন্ত। উনি এটি এরশাদ জীবিত থাকতে বলতে পারতেন। বিশ বছর পর উনি এসব বললে তো হবে না।

জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির পর বিদিশার নানামুখী প্রতারণা টের পান এরশাদ। ২০০৫ সালে তালাক কার্যকর হলে বিদিশা বাধ্য হন বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক ছাড়তে।

দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, উনি বলে গেছেন আমি মরার পরও বিদিশা যেন প্রেসিডেন্ট পার্কে না আসে তোমরা একটু দেখো।

/এস এন





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply