প্রথম সমুদ্রাভিযান সফলভাবে শেষ করলো আইএনএস ভিক্রান্ত

|

সমুদ্রে ভাসলো আইএনএস ভিক্রান্ত।

সামরিক পরাশক্তি হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো ভারত। সফলভাবে সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন করেছে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী আইএনএস ভিক্রান্ত।

সাগরে প্রথম অভিযান শেষে আজ রোববার (৯ আগস্ট) কোচি উপকূলে ফেরে জাহাজটি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের বাইরে এই প্রথম কোনো দেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রণতরী সাগরে ভাসালো।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গর্বের ইতিহাস লিখেছিলো ভারতীয় রণতরী ভিক্রান্ত। পাক বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে, ত্বরান্বিত করেছিলো মিত্র বাহিনীর বিজয়। দাপুটে সেই রণতরীরই যেন পুনর্জন্ম হলো ভারতে। নিজেদের প্রথম বিমানবাহী রণতরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একই নামে যাত্রা শুরু করলো আইএনএস ভিক্রান্তের।

গত বুধবার (৪ আগস্ট) কেরালার কোচি থেকে প্রথমবারের মতো সমুদ্রযাত্রা করে ভারতীয় নৌ বাহিনীর নতুন এ রণতরী। ৫ দিনের সফল অভিযান শেষে আজ রোববার আইএনএস ভিক্রান্ত নোঙর করলো কোচি বন্দরে। নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের পর এই প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তির রণতরী সাগরে ভাসালো কোনো দেশ।

ভারতের সাউদার্ন নেভাল কমান্ডের কমান্ডর ইন চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল এ.কে. চাওলা বলেন, ভারতের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। ভারতের তৈরি বিমানবাহী রণতরী প্রথম সমুদ্র অভিযান সফলভাবে শেষ করেছে। অনেক দিক থেকেই এটা প্রথম অভিজ্ঞতা। আমাদের উৎপাদিত প্রথম যুদ্ধজাহাজ যা সাগরে চলেছে, যেটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশা করা, পূর্ণ গতিতে চালিয়ে যার সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ যাবৎ ভারতে নির্মিত সবচেয়ে বড় সামরিক নৌযান আইএনএস ভিক্রান্ত। ২৬২ মিটার দীর্ঘ ও ৪৫ হাজার টন ওজনের এ জাহাজটি চলতে পারে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮ নটিক্যাল মাইল গতিতে। ১৪টি ডেকের ওপর তৈরি রানওয়ে থেকে উড়াল দিতে পারবে, মিগ-টুয়েন্টিনাইনের মতো ফাইটার বিমান। এতে একত্রে মোতায়েন থাকবে, ৩৫টি যুদ্ধবিমান। বিশাল এ রণতরী নির্মাণে ভারতের ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার কোটি রুপি।

এ মুহুর্তে ভারতে সক্রিয় আছে মাত্র একটি রণতরী। ২০১৩ সালে কমিশন পাওয়া আইএনএস বিক্রমাদিত্য রাশিয়ায় তৈরী করা হয়েছিলো। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী বছরই পূর্ণাঙ্গ সার্ভিসে ঢুকবে নতুন রণতরী আইএনএস ভিক্রান্ত। গভীর সাগরে এর নিরাপত্তায় থাকবে একাধিক ফ্রিগেট জাহাজ ও সাবমেরিন।

১৯৬১ সাল থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত সার্ভিসে ছিলো ভারতের ইতিহাসের প্রথম রণতরী ভিক্রান্ত। অনেক লড়াইয়ের সাক্ষী ওই জাহাজটিকে ২০০২ সালে যাদুঘরে রূপান্তরের অনুমোদন দেয় ভারত সরকার। শেষ পর্যন্ত একটি বেসরকারী কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় আইএনএস ভিক্রান্তকে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ভেঙে ফেলা হয় ২১ হাজার ৬৭ টনের বিশাল ও ঐতিহাসিক জাহাজটি।

/এসএইচ





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply