কলেজশিক্ষকের ৬ টুকরা লাশের ব্যাপারে যা জানালো র‍্যাব

|

আশুলিয়ায় সম্প্রতি নিখোঁজ কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করেছে র‍্যাব। সোমবার (৯ আগস্ট) উদ্ধার অভিযানের পর র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ব্রিফিংয়ে জানান, গত ৭ জুন খুনিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত ৩ জন জানিয়েছে, ১৩ জুলাই কোচিংয়ের ক্লাস শেষে ওই শিক্ষককে তারা ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ৬ টুকরা করেছে। হত্যার আগেই তারা দা, কোদাল ইত্যাদি আলামত স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। পাশাপাশি খুনিরা সিমেন্ট, বালু ইত্যাদিও সংগ্রহ করে রেখেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল হত্যার পর লাশের টুকরাগুলো মাটিচাপা দিয়ে ঢালাই করে রাখার। এছাড়াও মাথার টুকরাটি তারা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দিয়েছে। র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, মাথার টুকরাটি উদ্ধারে তাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মিন্টু বর্মণ এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে রবিউল ও মোতালেবের সাথে তিনি সাভার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অংশীদার ছিলেন। তাদের মধ্যে পেশাগত ঈর্ষাজনিত ব্যাপার ছিল, এছাড়া লভ্যাংশ বণ্টন নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। যার প্রেক্ষিতে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানান র‍্যাব কমান্ডার।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, খুনিরা লাশের ছয়টি টুকরা করে তার পাঁচটি টুকরা কলেজ প্রাঙ্গনে চাপা দেয়। আর মাথার টুকরাটি আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়, যা উদ্ধারে তাদের অভিযান চলছে। র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, খুনিদের পরিকল্পনা ছিল, লাশের ছয়টি টুকরা বিভিন্ন স্থানে ফেলবে। তারই অংশ হিসেবে মাথাটি তারা আশকোনায় ফেলেছিল।

গত ১৩ জুলাই আশুলিয়ার ব্যারন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সাভার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। পরে তার ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগ জানানো হয় র‍্যাবের কাছেও।

র‍্যাবের তদন্তে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট রবিউল, মোতালেব ও বাদশাহর নাম বেরিয়ে আসে। গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজ ওই কলেজশিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হলো।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply