ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্টির বাকি আছে এখনও

|

চলমান সিরিজে টাইগারদের ব্যাটিং ঝলক দেখা গেছে আফিফ ও সোহানের ম্যাচজয়ী পার্টনারশিপে। ছবি: ক্রিকইনফো

ম্যাচ জয়ের সময় দলের অনেক সীমাবদ্ধতাই চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু পরাজয়ের দিনে আতশ কাঁচ দিয়ে খোঁজা হয় হারের কারণ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে সেরকমই কথাই প্রযোজ্য। টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর চতুর্থ ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেও হারতে হয়েছে টাইগারদের। স্কোরবোর্ডে আর ১০-১৫ রান থাকলে হয়তো ফলাফলটা ভিন্ন হতে পারতো, এমন আফসোস করেছে নিশ্চয়ই অনেকে।

চেনা কন্ডিশন, চেনা উইকেট- মিরপুরে বেড়ে ওঠা টাইগাররা হোম কন্ডিশন কাজে লাগিয়েই অজিদের বিরুদ্ধে সেরে ফেলেছে সিরিজ জয়ের সমস্ত আয়োজন। উইকেট অনেক স্লো, বল ব্যাটে আসে থেমে থেমে। উইকেটের এমন আচরণের জন্যই যে লো স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে তা আর অজানা নয় কারো। এমন উইকেটে রান তুলতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হোম কন্ডিশনে বাংলাদেশ কেন পারছেনা একবারও ১৪০ রানের ঘর অতিক্রম করতে।

ব্যাটিং ব্যর্থতার মাঝেও আশা দেখিয়েছেন নাইম শেখ। ছবি: ক্রিকইনফো

চতুর্থ ম্যাচটিতে বোর্ডে মাত্র ১০৪ রান নিয়েই লড়াই চালিয়ে গেছে বাংলাদেশের বোলাররা। মোস্তাফিজরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত জয়ী না হওয়ায় ব্যাটিংকে তোলা হয়েছে কাঠগড়ায়। পুরো সিরিজেই ব্যর্থ ওপেনার সৌম্য সরকার। তার সাথে আরেক ওপেনার নাইম শেখ প্রায়ই আশার ঝলক দেখিয়েও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি কোনো ম্যাচেই। চার ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে যথাক্রমে ১৫, ৯, ৩ এবং ২৪। প্রতিটি ম্যাচেই প্রথমে আউট হয়ে জুটি ভাঙার দায় সৌম্য সরকারের।

আর ব্যাটিং লাইন আপের দুই স্তম্ভ সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ দেখাতে পারছেন না ধারাবাহিকতা। একমাত্র তরুণ আফিফ হোসেনের ব্যাটেই ছিল ফরম্যাটের মেজাজ বুঝে ব্যাট করার প্রবণতা।

দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ২২ রান করে দলকে জিতিয়ে ফেরা নুরুল হাসান সোহান বাকি তিনটি ম্যাচে করেছেন যথাক্রমে ৩, ১১, এবং ০।

শামীম হোসেন পাটোয়ারী তার তিনটি ইনিংসে করছেন মোট ১০ রান। বাজে শট খেলে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে ফিনিশার হয়ে ওঠার আশা দেখানো এই হার্ড হিটার। স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান এর মাঝেই দেখিয়েছেন একজন কার্যকর অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা। প্রত্যাশার চেয়েও কিছু সময়ে মেহেদীর কাছ থেকে ব্যাট হাতে সার্ভিস পাওয়া গেছে বেশি।

রানের সাথে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্ট্রাইক রেট। এদিক থেকেও সাকিব এবং আফিফ ছাড়া কারও মাঝেই টি-টোয়েন্টির মেজাজ বুঝে ব্যাট করার প্রবণতা দেখা যায়নি। এই সিরিজে দারুণ স্ট্রাইক রেট নিয়ে এসেছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু জশ হ্যাজেলউডের উইকেট টু উইকেট বল কিংবা বডি লাইন ডেলিভারিতে একদমই সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য। স্ট্রাইক রোটেট কিংবা বাউন্ডারি হাঁকানো, কোনোকিছুই করে উঠতে পারছিলেন না বলে চাপ বেড়ে যাচ্ছিল দু’প্রান্তেই। উইকেট বিলিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত সেই বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেয়েছেন সৌম্য। কিন্তু মুক্তির এহেন রাস্তায় হয়তো তিনি নিজেও আর হাঁটতে চান না।

ব্যাটারদের মাঝে ইম্প্রোভাইজেশনের প্রবণতা দেখা গেছে। দেখা গেছে সেসবের চেষ্টা করতে গিয়ে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হবার দৃশ্যও। ক্রিকেট গ্রামার থেকে কপি বুক শট খেলতে গিয়ে স্লোয়ারে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছেন আজ শামীম পাটোয়ারী।

সামনের টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওপেনিং জুটিতে মজবুত সূচনা এবং স্ট্রাইক রোটেট করার ক্ষেত্রে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে আরও উন্নতি দেখতে চায় দর্শকেরা। কারণ বাউন্ডারি আসতে দেরি হলেও চাপ বাড়িয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসলে তৈরি হবে না পার্টনারশিপ। এর সাথে আফিফ, নুরুল হাসান ও শামীমদের কাছেও স্লগ ওভারে স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর প্রত্যাশা থাকবে সবারই।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পিচ মিরপুরের মতো এতোটা স্লো না হলেও সিমিং-বাউন্সি পিচও হবে না সেখানে। তাই এই সিরিজের ভুলত্রুটিকে কাটিয়ে উঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্পোর্টিং উইকেটে আধিপত্য করবে বাংলাদেশ, এই স্বপ্ন দেখাটা নিশ্চয়ই বাড়াবাড়ি হবে না।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply