ইতিহাস গড়লো টাইগাররা

|

অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ জিতে টাইগারদের উচ্ছ্বাস।

শেষ ওভার। ইতিহাসের হাতছানি। বল করতে আসলেন তরুণ মেহেদি হাসান। ক্রিকেট মোড়ল অস্ট্রেলিয়ার দরকার ২২ রান। প্রথম বলেই ছক্কা। বাড়লো টাইগার ভক্তদের বুকের ধুকপুকানি। আবারও স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা। কিন্তু না, কোনো অঘটন ঘটেনি। মেহেদিও আর ভুল করেননি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টান টান উত্তেজনার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়ে অজিদের সাথে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ।

অবশ্য এর আগের ওভারেই কাজটা সহজ করে রেখেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কম পুঁজির পুরো ম্যাচে মোস্তাফিজ তার স্বভাবসুলভ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কাবু করেন অস্ট্রেলিয়াকে। শেষ দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৩ রান। মুস্তাফিজ ১৯তম ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে সহজ করে দেন বাংলাদেশের জয়। পুরো চার ওভারে মাত্র নয় রান দেন কাটার মাস্টার।

স্নায়ু শক্ত রেখে অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে সিরিজে এগিয়ে থাকার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১২৮ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। রান তাড়া করতে নেমে মুস্তাফিজের মোহ জাগানিয়া বোলিংয়ে সেই রান টপকে যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারা।

ব্যাটিংয়ে নেমে নাসুমের আঘাতে শুরুতেই বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১ রান করে নাসুমের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান ম্যাথু ওয়েড। কিন্তু এই ধাক্কা সামলে নেন দুই অস্ট্রেলিয়ান মিচেল মার্শ এবং দলে সুযোগ পাওয়া বেন বেন ম্যাকডারমট। দুইজন মিলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। ম্যাচ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় বাংলাদেশ।

১৩ তম ওভারে বলে ফেরেন মোস্তাফিজ। ফিরেই চাপে ফেলেন অজিদের। তার বলে মিচেল মার্শ একবার ক্যাচ তুলে দিলেও সেই ক্যাচ মিস করে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার আশা নষ্ট করেন শরিফুল। তবে তার পরের ওভারেই বল কর‍তে এসে এসে বেন ম্যাকডারমটকে বোল্ড করে ভয় জাগানিয়া জুটি ভাঙেন সাকিব।

এরপরপরই খেলায় ফেরে বাংলাদেশ। ক্রিজে নামা নতুন ব্যাটসম্যান হেনরিকসকে স্লোয়ারে ফেরান শরিফুল। তখনও ক্রিজে ছিলেন অভিজ্ঞ মিচেল মার্শ। নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অজিদের সামনে থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে তাকে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে দেননি শরিফুল। ৫১ রান করা মিচেল মার্শকে ক্যাচের ফাঁদে ফেলে নিজের শিকারে পরিণত করেন।

এরপর ক্রিজে নামা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। বাংলাদেশের বোলারদের মাপা লাইন-লেংথের বল মোকাবেলা করে গেছেন শুধু।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন শরিফুল। আর একটি করে উইকেট নেন সাকিব ও নাসুম।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মাহমুদুল্লাহর ফিফটি ও সাকিবের ২৬ রানে ১২৭ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। শেষদিকে এসে অস্ট্রেলিয়ান তরুণ পেসার ন্যাথান এলিসের হ্যাটট্রিকে রান বড় করতে পারেনি বাংলাদেশ।

ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

অস্ট্রেলিয়ার সাথে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে টানা তিন জয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার প্রত্যাশা হোয়াইটওয়াশের।

/এস এন





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply