গালওয়ান ভ্যালি সংঘর্ষের নতুন ভিডিও প্রকাশ করলো চীন

|

গত বছর গালওয়ান ভ্যালিতে ভারতীয় বাহিনীর সাথে হাতাহাতির ভিডিও প্রকাশ করেছে চীন।

ভারত-চীন সীমান্তের লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল কে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ দশকের পুরানো দ্বন্দ্ব দুই প্রতিবেশী দেশের। গত ৫০ বছরে এ এলাকায় বেশ কয়েক দফা ঘটেছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ। ২০২০ সালেও সীমান্ত উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশের সেনারা। তবে, দু’দেশেরই দাবি, তারা কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। সম্প্রতি, লাদাখের দুর্গম সীমান্তের গত বছরের সংঘাতের নতুন কিছু ফুটেজ প্রকাশ করেছে চীন।

গত বছর জুনে বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘাতে জড়ায় ভারতীয় ও চীনা সেনারা। পরিণতিতে মৃত্যুবরণ করে গালওয়ান উপত্যকায় ২০ ভারতীয় আর ৪ চীনা সেনার মৃত্যু। সেসময় দুই দেশই দাবি করে, সংঘর্ষের সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি সেনারা। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, কিভাবে মৃত্যু হল ওই সেনা সদস্যদের?

চীনের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ি উঁচু জায়গা থেকে একে অপরের দিকে পাথর নিক্ষেপ করছে সেনারা। খরস্রোতা গালওয়ান নদী পেরিয়ে লিপ্ত হচ্ছে সম্মুখ যুদ্ধে। হাতাহাতি ও রড ব্যবহার করে সহিংসতায় জড়ায় তারা। আহত অবস্থায় অনেকে ভেসে যাচ্ছেন হিমশীতল গালওয়ান নদীতে। মূলত, পাথর আর রডের আঘাতে হওয়া গুরুতর জখমেই মৃত্যু হয় ওই সেনা সদস্যদের।

প্রশ্ন উঠছে এমন সংঘাতে কেনো কোনো অস্ত্রই ব্যবহার করল না সেনারা? ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে প্রায়ই গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটলেও, ভারত-চীন সীমান্তে কেন ভিন্ন এ চিত্র?

ইতিহাস বলছে, ১৯৯৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও’য়ের আমলে মেইন্টেন্যান্স অফ পিস এন্ড ট্র্যাঙ্কুয়েলিটি নামের একটি চুক্তি সাক্ষর করে দুই প্রতিবেশী। পরবর্তীতে, ১৯৯৬, ২০০৩, ২০০৫ সালে আরও একটি আস্থাবর্ধক ব্যবস্থাপত্রে সই ও চুক্তি নবায়ন করে দুই দেশ। আর সবশেষ ২০১৩ সালে সাক্ষর করে বর্ডার ডিফেন্স কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট নামক চুক্তিতে।

এসব চুক্তি অনুযায়ী মতভেদ বা বিরোধ যত তীব্রই হোক না কেন, সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এমন কোন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে দুই দেশের সেনারা। ফ্রন্টলাইনের সেনা সদস্যদের কাছে থাকবে না কোন অস্ত্র। তবে র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী কারো কারো কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও, অস্ত্রের নল ঘুরিয়ে রাখতে হবে মাটির দিকে। এমনকি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও, মারতে পারবে না চড়-থাপ্পড়।

২০২০ সালের ওই সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় চলে আলোচনা। তবে পুরোপুরি ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। তবে প্রায় ১০ মাস পর, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনাদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে দুই দেশ।

ভিডিওটি দেখুন এখানে।

/এসএইচ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply