চা বাগানে চিতা বাঘ!

|

সিলেট ব্যুরো:

সিলেটের একটি চা বাগানে বিলুপ্তপ্রায় চিতা বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও একটি গরুর ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর নড়ে চড়ে বসেছে বন বিভাগ। শিকারী প্রাণীটি চিতা বাঘ কিংবা অন্য কোনো হিংস্র জন্তু কিনা তা নিশ্চিত হতে চা বাগানটিতে বসানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন বিভাগ থেকে দুটি অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসানো হয়।

সিলেটের বিভাগীয় বন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানের বালিমাটিতে বাঘ সদৃশ প্রাণীর পায়ের ছাপ দেখে বন বিভাগকে জানান এক প্রকৃতিপ্রেমী। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি বন বিভাগ। সবশেষ বৃহস্পতিবার একটি গরুকে শিকারে পরিণত করে অজানা এই জন্তুটি। পাশে থাকা পায়ের ছাপ ২০ ফেব্রুয়ারি পাওয়া ছাপের মতো।

প্রকৃতিপ্রেমী আরিফ আখতারুজ্জামান যমুনা নিউজকে জানান, চা বাগানের ভেতর একটি বালির রাস্তার উপর বেশ কিছু পায়ের ছাপ দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে সেগুলোর ছবি তুলে স্থানীয় বন বিভাগকে দেন তিনি। কিন্তু বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাতে কোনো আগ্রহ দেখাননি।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চা বাগান একটি গরুকে পড়ে থাকতে দেখেন আরিফ। পেটের নীচের অংশও ছিন্নভিন্ন। পাশেই যে পায়ের ছাপ পাওয়া যায় তার সাথে আগের পায়ের ছাপের সাথে মিল রয়েছে। পরে তিনি সেই ছবি তুলে নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। কর্মকর্তারা সেই ছবি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যান ঘটনাস্থলে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলাম জানান, প্রথম দিকে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও গরুটিকে যেভাবে শিকার করা হয়েছে তা দেখে তাদের প্রাথমিক ধারণা এটি বিলুপ্ত প্রায় চিতা বাঘের মতো কোনো প্রাণী। একমাত্র বাঘ জাতীয় প্রাণীই শিকারের ঘাড়ে আঘাত করে রক্ত চুষে নেয়। এই গরুটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।

এই বনকর্মকর্তার ধারণা প্যানথ্যারা পারডুস( চিতাবাঘের বৈজ্ঞানিক নাম) প্রজাতির কোনো প্রাণী হতে পারে এটি। পায়ের ছাপগুলো ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন, বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে এমন ধারণাই করছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেন বনকর্মকর্তারা। ঢাকা থেকে শুক্রবার ঘটনাস্থলে আসেন বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আবু নাসের মহসিন হোসেন। মালনীছড়ার যে স্থানে মৃত গরুটি পাওয়া গেছে তার আশেপাশে দুটি ক্যামেরা বসান তিনি। তার ধারণা, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সীমান্তের ওপার থেকেও এসে থাকতে পারে চিতা বাঘ জাতীয় কোনো প্রাণী।

যমুনা অনলাইন: এমআর/টিএফ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply