হালদা ও কর্ণফুলীতে ৪ বছরে ৩১ ডলফিনের মৃত্যু, বিলুপ্তির আশঙ্কা

|

চট্টগ্রামের হালদা এবং কর্ণফুলী নদীতে একের পর এক ডলফিন মারা যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের হালদা এবং কর্ণফুলী নদীতে একের পর এক ডলফিন মারা যাচ্ছে। গেলো ৪ বছরে শুধু এই দুই নদীতেই ৩১টি ডলফিনের মৃত্যু ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের। এসব ডলফিনের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে জালে আটকে বা ড্রেজারের আঘাতে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ থেকে এই প্রাণিটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত রোববার (১ আগস্ট) কর্ণফুলী নদীর চান্দগাঁও হামিদচর অংশে সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্যের এক বছর বয়সী একটি মৃত ডলফিনটি ভেসে ওঠে। এর দুই সপ্তাহ আগে ১৫ জুলাই বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদন্ডি এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ছন্দারিয়া খালে পাওয়া যায় পূর্ণবয়স্ক আরেকটি মৃত ডলফিন। গত ৬ জুলাই হালদা নদীর শাখা খাল চানখালিতে মরে ভেসে ওঠে সাড়ে সাত ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ১২০ কেজি ওজনের বিশাল এক ডলফিন।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত হালদা নদীতে ২৯টি আর কর্ণফুলী নদীতে দুইটি ডলফিন মারা গেছে। মূলত, মাছ ধরার জালে আটকে এবং নদী থেকে বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারের আঘাতেই ডলফিনগুলো মারা যাচ্ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ডলফিনের চামড়ার নিচে চর্বির এক ধরণের স্তর থাকে। যার জন্য এরা ভাসতে পারে। ডলফিনের চামড়ার নিচে চর্বির স্তর খুব নরম হওয়ায় একটু আঘাত লাগলেই সেই চর্বির স্তরে কিছুদিন পর ইনফেকশন তৈরি হয় এবং ডলফিনগুলো মারা যায়।

এভাবে নিধন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ থেকে ডলফিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এরা পানির নিচে শ্বাস নিতে পারে না, উপরে ভাসতে হয়। তাই অল্প সময়ের জন্য জালে আটকা পড়লেও এদের মৃত্যু হতে পারে। যে হারে ডলফিন মারা যাচ্ছে এভাবে মারা গেলে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ থেকে ডলফিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

নদী গবেষক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, আমাদেরকে নদীর বাস্তুসংস্থানের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। মনোযোগী হতে হবে। যাতে আমরা বিলুপ্ত এই প্রাণিটিকে রক্ষা করতে পারি।

এক গবেষণার তথ্যমতে, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ১৬৭টি ডলফিন থাকলেও, ২০২০ সালে তা নেমে এসেছে ১২৭টিতে।

/এস এন





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply