ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েই চলেছে

|

করোনার ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ।

মানিকনগরের মধ্যবয়সী ইসমাইল হোসেন। পেশায় রিক্সা চালক। সাত দিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় দিশেহারা পরিবারটি। ইসমাইল হোসেনের মত এমন অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে।

করোনার ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো না গেলে বর্তমান করোনা রোগীদের সেবা দিতে ব্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

রোববারের (১ আগস্ট) তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে ৮৬২ জন। যাদের বড় অংশই ঢাকায়। করোনাকালে নতুন দুশ্চিন্তা ডেঙ্গু। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডা. মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, শেষ ১৫ দিনে যে পরিমাণ ডেঙ্গু রোগী আসছে আসছে এই অবস্থা চলতে থাকলে দেখা যাবে কোভিডের চেয়েও ডেঙ্গু নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সামনে পড়তে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় রাজধানীতে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রেলওয়ে আর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখনও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি। তারা বলছেন, এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন হাতে পাননি তারা, তবে মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিতে হবে তাদের।

বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় চিকিৎসা র্কমকর্তা ডা. রিপন দাশ বলেন, আশঙ্কাজনক ডেঙ্গু রোগীর জনয় যেসব চিকিৎসা সেবা সরবরাহ করতে হয় সেগুলো কিন্তু আমরা এখনও করতে পারি না। আমাদের যা প্রস্ততি আছে তা নিয়ে আমরা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি সেবা দিতে।

লকডাউনে শহরের সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা বন্ধ থাকায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এখনও রোগীর সংখ্যা অনেক কম বলে দাবি ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় যাইনি। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই সবাই একসাথে কাজ করে যেন দ্রুত আগস্টের মধ্যেই ডেঙ্গুর হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে পারি।

বিশেষজ্ঞরা এডিস মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে নাগরিকদের সচেতন হতে বলেছেন। তবেই কমবে ডেঙ্গুর প্রকোপ।

/এস এন





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply