‘কাজে আসছে না লকডাউন, সামনে কঠিন সময়’

|

শিল্প কারখানা খোলার ঘোষণায় লকডাউনের মাঝে এভাবেই কর্মস্থলে ফিরেছে মানুষ।

সরকারের ভুল নীতি আর মানুষের উদাসীনতায় লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না এমন মূল্যায়ন করে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সামনে পার করতে হবে আরও কঠিন সময়। এক থেকে দুই সপ্তাহ পর করোনার সংক্রমণ ও ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

কঠোর লকডাউন শেষ হওয়ার কথা আগামী ৫ আগস্ট। যেখানে বন্ধ থাকার কথা জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু। তার আগে, হঠাৎ করেই ১ আগস্ট খুলে দেয়া হলো রপ্তানিমুখী শিল্ল্প কারখানা। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় গাদাগাদি করে, স্বাস্থ্যবিধি ভুলে মানুষ ঢাকায় ফিরেছে। পরে সাময়িকভাবে বাস-লঞ্চ চালু হলেও মানানো যায়নি স্বাস্থ্যবিধি। হুট করে নেওয়া প্রশাসনিক এসব সিদ্ধান্তকে ‘হটকারী’ বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তৌফিক জোয়ার্দার বলেন, ঈদের ছুটিতে মানুষকে যেতে দেওয়ার পর থেকে আমাদের কোভিড কেইস বেড়ে গেছে। ঈদের পর আবার মানুষ ফিরছে। আমরা এই যে ভুলগুলো করেছি তার প্রভাব আরও এক দুই সপ্তাহ পর বোঝা যাবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের শিক্ষক ফারজানা নুসরাত বলেন, লকডাউনের উদ্দেশ্য ছিল ১৪ দিন যে যেখানে আছে সেখানেই যেন থাকে। কিন্তু এর আগেই হঠাৎ করে শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তা আর কাজে আসেনি। সামনের ১৪ দিন পর আমরা একটা ভয়াবহ অবস্থার সামনে পড়তে পারি।

লকডাউন চলাকালেই হু হু করে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। টানা এক সপ্তাহ মৃত্যুর সংখ্যা দুইশর উপরে। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হারও ৩০ শতাংশের নিচে নামছে না। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তৌফিক জোয়ার্দার বলেন, সব মিলিয়ে লকডাউনের যে ব্যবস্থাপনা সে ব্যবস্থাপনা সঠিক হয়নি। আবার লকডাউনের মাঝেই কলকারখানা খুলে দেওয়া হলো। কারখানা খোলা থাকলেও আবার গণপরিবহন চলে না। এমন অবস্থায় আসলে লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের শিক্ষক ফারজানা নুসরাত বলেন, প্রতিদিন যেভাবে মানুষের মৃত্যুর সংখ্য বাড়ছে, আগামী ১৪-১৫ দিন পর এই সংখ্যা কিন্তু বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এই সঙ্কট মোকাবিলায় আমাদের যে সক্ষমতা আছে তাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

সংক্রমণ মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

/এস এন


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply