প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে কক্সবাজার: আবারও বন্যার আশঙ্কা

|

ভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কক্সবাজারের পথ ঘাট।

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে হলেও এখনো পানি বন্দী কক্সবাজারের ১ লাখ মানুষ। আর গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা।

এদিকে বাড়তে শুরু করেছে নদীর পানি। বন্যার পানিতে কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়কের হ্নীলা রংগীখালী এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প আবারও প্লাবিত হয়েছে পানিতে। এতে ক্যাম্পের শতাধিক ঘর নষ্ট হয়েছে।

চলমান লক ডাউনের পাশপাশি কয়েকদিন ধরে সৃষ্ট হওয়া বন্যায় কক্সবাজারের সমূদ্র উপকূলবাসী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাদ্য সংকট সহ পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ বন্যা কবলিতদের। তবে প্রশাসন বলছে পর্যাপ্ত সাহায্য দেয়া হয়েছে।

প্লাবিত জনপদ থেকে ইতোমধ্যে পানি নামতে শুরু করলেও গতকাল শনিবার (৩১ জুলাই) রাত থেকে ভারী ও মাঝারী বৃষ্টির কারণে আবারও বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাও, রামু ও সদর উপজেলার এক লাখ মানুষ এখন রয়েছেন পানি-বন্দি অবস্থায়। বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট-বাড়ীঘরসহ ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

গত শুক্রবার (৩০ জুলাই) থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদী ও প্লাাবিত জনপদ থেকে পানি নামতে শুরু করলেও গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত থেকে ভারী বর্ষণের ফলে আবারও বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানি কমলেও জেলার মাতামুহুরি ও বাকখালী নদীর ভাঙন বাড়ছে। মাতামুহুরি নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গতকালও ভাঙনের ফলে শতাধিক বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাতামুহুরি নদীর ফাসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, কাকারা, বিএমচর, পুর্ব বড় ভেওলা, শাহারবিল, চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে বাকখালী নদীর গর্জনীয়া, রাজারকুল, ঝিলংজা, রামু পয়েন্ট নদী ভাংগন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মানুষ খাদ্য সংকট সহ নানা সমস্যায় রয়েছে।

শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শতাধিক বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্যাম্পের রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে পানিতে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের ৫২৫ টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের ৪ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। জেলার ৭১ টি ইউনিয়ন ও ৪ টি পৌরসভার মধ্যে ৫১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবারের বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৮টি টিম মাঠে নেমেছে


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply