বাড়ছে মানসিক অবসাদগ্রস্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা, টাইগাররা কেমন আছেন

|

করোনা মহামারিতে মানসিক অবস্থায় কেমন আছেন আমাদের ক্রিকেটাররা?

কোয়ারেন্টাইন, বায়ো বাবল- এই শব্দগুলো বিশ্বজুড়ে কঠিন বাস্তবতায় ফেলে দিচ্ছে ক্রীড়াবিদদের। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সিরিজগুলো লম্বা সময় ধরে হয় বলে ক্রিকেটে এর প্রভাব আরও বেশি।

ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক বেন স্টোকস অনির্দিষ্টকালের ছুটি নেয়ার খবরে আলোচনায় জোরেশোরেই ফিরে এলো ক্রিকেটারদের উপর করোনা মহামারির ভয়ঙ্কর প্রভাব। এবং তার ফলাফল হিসেবে আসে মানসিক অবসাদ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিকেটের স্বার্থেই নজর দিতে হবে ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে।

বায়ো বাবল আসলে কেমন এবং একজন ক্রিকেটার কতোটা কঠিন সময় কাটান এই সুরক্ষা বলয়ে, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে সাকিব আল হাসানের এক উত্তরেই। আইপিএল খেলতে গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এই সময়ে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল তার মনে! একজন পেশাদার ক্রিকেটার যখন এভাবে বলতে পারেন তখন বুঝে নিতে কষ্ট হয় না, দীর্ঘ সময় পরিবার পরিজন থেকে দূরে থাকতে গিয়ে মনের উপর কতোটা চাপ পড়ে তাদের।

পরিবার থেকে তো দূরে থাকতেই হয়, এমনকি নিজের টিমমেটদের সাথেও দেখা নেই। সুযোগ হয় না রুমের বাইরে যাবারও। এটা সিরিজ শুরুর কথা। কিন্তু সিরিজ শুরুর পরও মেনে চলতে হয় কঠোর বায়ো বাবল।

সাকিব-মোস্তাফিজরা যেমন শ্রীলঙ্কা সিরিজ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই থাকছেন বায়ো বাবলে। জিম্বাবুয়েতে এক মাসের টানা বায়ো বাবল শেষে ঢাকা এসেই তারা ছিলেন ৩ দিনের ঘরবন্দি জীবনে। এমন দিনযাপন দূর্বিষহ করে ফেলতে পারে ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা।

কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, প্রত্যেকেরই উচিত চার্ট তৈরি করা, যেখানে থাকবে তারা কতোদিন বায়ো বাবলে আছে, তাদের মানসিক অবস্থা কী এসব। প্রত্যেকে দলের সাথেই একজন মনোবিদ থাকা জরুরি যিনি বলতে পারবেন কার কখন ছুটি দরকার। 

কোয়ারেন্টাইন ও বায়ো বাবলের ফলাফল এখনই দেখা যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার তিন ক্রিকেটার বায়ো বাবল ভেঙে বাইরে গিয়ে ক্রিকেট থেকেই নিষিদ্ধ হলেন ১ বছরের জন্য। আর মানসিক বিষাদে তো ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিই নিলেন বেন স্টোকস। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এসবের কারণ সেই জৈব সুরক্ষা বলয়ের প্রভাব।

নাজমুল আবেদিন ফাহিম আরও বলেন, এমন ঘটনা সামনে আরও এলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। আমাদের প্লেয়াররাও অনেকদিন ধরেই কোয়ারেন্টাইন ও বায়ো বাবলের মধ্যেই আছে। সিরিজের পর সিরিজ খেলছে। হয়তো বা তারাও নিজেদের মধ্যে এমনটা ভাবাও শুরু করেছে। 

বায়ো বাবলের সাথে আছে করোনা টেস্ট। ১০ দিনের অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ভেতরেই ৫ বার করোনা টেস্ট করতে হবে খেলোয়াড়দের। সব মিলিয়ে ৯ বার টেস্ট। যদিও এবার কেউ পজেটিভ হলে প্রকাশ্যে জানাবে না অস্ট্রেলিয়া বোর্ড বা বিসিবি। তবে তাতে কাটছে না ক্রিকেটারদের সারাক্ষণ শঙ্কা আর মানসিক চাপ। 





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply