অলিম্পিকের কমেন্ট্রি বক্সে লাল সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাজবীর

|

টোকিওর আরিয়াকে টেনিস অ্যারেনায় তাজবীর আহমেদ সাজিদ। ছবি: সংগৃহীত

টোকিও অলিম্পিক থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদেরা শূন্য হাতে বিদায় নিলেও অলিম্পিকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের এক কৃতি শিক্ষার্থী। তার নাম তাজবীর আহমেদ সাজিদ। তিনি যুক্ত আছেন কমেন্ট্রি কন্ট্রোল অ্যান্ড অপারেশন্সে। কাজ করছেন অলিম্পিকের টেনিস ইভেন্টের ধারাভাষ্যকক্ষে।

যমুনা টিভির সাথে আলাপচারিতায় তাজবীর আহমেদ সাজিদ জানালেন তার কাজের ধরন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অলিম্পিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসে কাজ করার এই সুযোগ পেয়ে তিনি দারুণ আনন্দিত ও গর্বিত। ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনগুলোর সাথে অলিম্পিক ইভেন্টকে সংযুক্ত করাটাই মূলত তাদের কাজ। তাজবীর সেখানে সহকারি সম্প্রচার ও কমেন্ট্রির সহকারি হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্বের নামকরা সাংবাদিক এবং ধারাভাষ্যকারদের পাশে থেকে কাজ করার মাধ্যমে অনেক কিছুই শিখতে পারছেন বলে জানান তাজবীর। ধারাভাষ্যকারদের কাজের বিভিন্ন ধরন জানার মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন, ধারাভাষ্যকে কীভাবে আরও সাবলীল করা যায়।

যমুনা টিভির সাথে আলাপচারিতায় তাজবীর আহমেদ সাজিদ।

তাজবীর আরও জানান, করোনা মহামারির সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই টেলিভিশনে খেলা দেখছেন। তাই টেনিসের মতো ইভেন্টের শেষ খবর এবং তার সবশেষ সম্প্রচার যেন পৌঁছে দিতে পারেন দর্শকদের সামনে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন তারা।

জানতে চাওয়া হয়েছিল তারকা ধারাভাষ্যকারদের পাশে থেকে ধারাভাষ্য দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা তাজবীর। তিনি জানান, এক্ষেত্রে তিনি সৌভাগ্যবান। কারণ সাধারণত কোনো ইভেন্ট শেষ হবার পর মিক্সড জোনে পদকজয়ী খেলোয়াড়রা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সেখানেই টেনিস তারকা নাওমি ওসাকার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি। কোন চ্যানেলে সেটি প্রকাশ করা হয়েছে সেটা তিনি বলতে পারেননি, তবে প্রমীলা টেনিসের ১ নম্বর বাছাই নাওমির তৃতীয় রাউন্ডেই বাদ পড়ে যাওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাজবীর পেশাগতভাবে একজন চক্ষু চিকিৎসক। সাধারণত এই পেশার মানুষদের ব্যস্ততার কারণে ক্রীড়াক্ষেত্রে বিচরণ অনেকটাই কম দেখা যায়। তাজবীর বলেন, পেশাগতভাবে চিকিৎসক হলেও তার নেশা ধারাভাষ্য দেয়া। মানুষের জীবন স্বপ্নের পেছনে ছোটে এবং স্বপ্নকে ধাওয়া করার এই প্রবণতাই তাজবীরকে নিয়ে এসেছে এমন বড় মঞ্চে। আইবিসিতে (ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) দুই বছর আগে কমেন্ট্রি পরিচালনা পর্ষদের আওতায় ষাট দিনব্যাপী একটি দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা দিতে হয়েছে। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়া নিশ্চিত করার পরেই অলিম্পিকে কাজ করার সুযোগটা তিনি পেয়েছেন।

যেহেতু টেনিস কাভার করছেন, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল জোকোভিচের স্বর্ণ জয়ের কেমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন। তাজবীর বলেন, জোকোভিচের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাই আছে টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের। তবে এক্ষেত্রে জাপানের টেনিস তারকা কেই নিশিকোরিকে একজন শক্ত প্রতিপক্ষ ভাবছেন তাজবীর। হোম গ্রাউন্ডে দর্শকদের সমর্থন নিয়ে হার না মানা নিশিকোরি যদি চূড়ান্তভাবে সফল হয়েই যান তবে অবাক হবেন না তাজবীর। তিনি জানিয়েছেন, এবারের আসরে ফেদেরার, নাদালদের মতো মহাতারকাদের তিনি মিস করেছেন।

/এমই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply