বাবার স্মৃতির শক্তিতে স্বর্ণ জিতলেন কেইলি ম্যাককিউন

|

নারীদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে স্বর্ণজয়ী কেইলি ম্যাককিউন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত বাবার শোককে শক্তিতে পরিণত করে সুইমিংপুলে ঝড় তুললেন কেইলি ম্যাককিউন। কাইলি ম্যাসি ও রিগ্যান স্মিথকে পেছনে ফেলে টোকিও অলিম্পিকে নারীদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে স্বর্ণ জিতলেন এই অস্ট্রেলিয়ান তরুণী।

হিট আর সেমিফাইনালের রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা চললো ফাইনালেও। একই আসরে পঞ্চমবারের মতো নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছেন কেইলি ম্যাককিউন। তিনি সময় নিয়েছেন ৫৭.৪৭ সেকেন্ড। আর এই স্বর্ণ তিনি উৎসর্গ করেছেন ক্যান্সারে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া বাবাকে।

২০ বছর বয়সী কুইন্সল্যান্ডের তরুণী কেইলি মাত্র ১১ মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন ক্যান্সারে। টোকিও অলিম্পিকে হানা দেয়া টাইফুনের চেয়েও জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সেই ঝড় ছিল ভয়ঙ্করতম। সেই ঝড় কেইলি ম্যাককিউনকে একাই সামাল দিতে হয়েছে।

নারীদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে হয়েছে অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা। হিটে প্রথম রেকর্ড ভাঙেন কানাডার কাইলি ম্যাসি, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের রিগ্যান স্মিথ ও ম্যাককিউন নিজে প্রথমবার। সেমিফাইনালে আবার রেকর্ড ভেঙে স্মিথই ছিলেন ফাইনালের ফেবারিট।

তবে একই আসরে পঞ্চমবার সেই অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙলো আর অবিশ্বাস্য সেই কীর্তি গড়লেন কেইলি ম্যাককিউন। পেছনে ফেলেন ম্যাসি ও স্মিথকে। তবে শেষ ২৫ মিটারের আগে এই দু’জনের পেছনেই ছিলেন কেইলি। এরপর এগিয়ে যান অবিশ্বাস্য গতিতে।

স্বর্ণজয়ী সাঁতারু কেইলি ম্যাককিউন জানিয়েছেন তার অনুভূতির কথা। বলেন, শেষ ২০ মিটারে আমার পা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, ব্যথা টের পাচ্ছিলাম; সে সময় বাবাকে মনে করেছি। শরীরের কষ্টকে ভুলে শুধু এগিয়ে গেছি। আর এ রকম অবস্থার জন্য আমার প্রস্তুতিও ছিল। আমি আমার শরীরের শক্তিকে কাজে লাগিয়েছি এ সময়। এটা কাজে দিয়েছে।

আর তাতেই ৫৭.৪৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে গড়লেন নতুন অলিম্পিক রেকর্ড। দশমিক ২৫ সেকেন্ড বেশি নিয়েছেন ম্যাসি। সাবেক বিশ্বরেকর্ডধারী রিগান স্মিথ নেন ৫৮.০৫ সেকেন্ড।

সেরাদের হারিয়ে পাওয়া এই স্বর্ণ প্রয়াত বাবাকে উৎসর্গ করতে সময় নেননি সাঁতারের নতুন বিস্ময় কেইলি ম্যাককিউন, শোকই যার মূল শক্তি।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply