যে কারণে শ্বশুর আর বরের কোলে চেপে শ্বশুরবাড়ি গেলেন নববধূ

|

বিয়ে শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বর। পথে এসে দেখেন বাড়ি যাওয়ার রাস্তা জোয়ারে ভেঙে নিয়ে গেছে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

বিয়ে শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বর। পথে এসে দেখেন বাড়ি যাওয়ার রাস্তা জোয়ারে ভেঙে নিয়ে গেছে।তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করা যায়নি নৌকা। অগত্যা সিদ্ধান্ত হলো বরযাত্রীরা হেঁটেই পার হবে এই রাস্তা। কিন্তু তাই বলে নববধূকে তো আর পানিতে হাঁটানো যায় না! শেষে শ্বশুরই তাকে কোলে তুলে নিলেন। কোমর পানি পার করে বাবা এবার বৌকে তুলে দিলেন বরের হাতে। বরের কোলে চড়ে বাকি রাস্তা পার হলেন ওই নববধূ। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর চরমার্টিন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৬ জুলাই) ভাইরাল হয় কোলে চড়ে নববধূর ভাঙা রাস্তা পার হওয়ার ওই ছবি। জানা গেছে, চরমার্টিন ইউনিয়নের মো. হারুনের ছেলে মো. রমিজের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কালকিনি ইউনিয়নের আবদুল মতিনের মেয়ে জান্নাত বেগমের বিয়ে হয় শুক্রবার দুপুরে।

শ্বশুর মো. হারুন জানান, ছেলের বউ নিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে দেখি, জোয়ারের তোড়ে রাস্তা ভেঙে কোমরপানি। পানিতে তলিয়ে গেছে বাকি পথ। বাড়ির উঠানেও পানি উঠেছে; যে কারণে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

স্থানীয় চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, মেঘনা নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। যে কারণে জোয়ার এলেই ডুবে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। পূর্ণিমার প্রভাবে ২৩ জুলাই থেকে অস্বাভাবিক জোয়ার দেখা দেয়। নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট পানি বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, কয়েক দফা জোয়ারে চরমার্টিন এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দুটি রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে জোয়ারে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয় গেলে আগামীতে এই গ্রামের সঙ্গে কেউ আত্মীয়তা করবে না বলেও আশঙ্কা করছেন এই জনপ্রতিনিধি।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply