আখাউড়ায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ

|

লক ডাউনের মধ্যে বাল্য বিবাহ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুমানা আক্তার ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

আজ সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে দুবাই প্রবাসী সুহেল মিয়ার ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।

এসময় বর ও কনে পক্ষকে বাল্যবিয়ে আয়োজন করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কনে নূরপুর-রুটি আব্দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী এবং বর একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।

জানা যায় আজ সোমবার দুপুরে রুটি গ্রামের প্রবাসী সুহেল মিয়ার মেয়ের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে জুনায়েদ বাবু’র বিয়ের আয়োজন করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে বর নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন বরপক্ষের অর্ধশত লোক। বর যাত্রীদের খাবার টেবিলে বসানো হয় ভুরিভোজের জন্য। এমন সময় খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তার।

পরে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং ওই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আশরাফুল আলমের উপস্থিতিতে বর-কনের জন্মনিবন্ধন যাচাই করে তারা প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেন। বর-কনের সঠিক বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না মর্মে মুচলেকা দেন তাদের অভিভাবকরা।

এই ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুমানা আক্তার বলেন, লকডাউনের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল খবর পেয়ে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে খবরের সত্যতা পাই। তখন মধ্যাহ্ন ভজন চলছিলো, বিয়ে হওয়া বাকী ছিল। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেয়া হবে না এই মর্মে তারা মুচলেকা দেয়। উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply