গলাকেটে হত্যার স্বীকারোক্তি পিতার, দাবি ছেলে তার না

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ায় জমি থেকে শিশু সাইমনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ৯ বছরের ছেলেকে সাইমনকে গলাকেটে হত্যার পর মরদেহ জমিতে ফেলে যাওয়ার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন বাবা বাদল মিয়া (৩০)। তবে দাবি করেছেন, সাইমন তার ছেলে না।

আজ রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বাদল। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম।

বাদলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার জানান, ২০১২ সালে বাদলের সঙ্গে মিলির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাইমন (৯), আইমান (৬) ও নাইম (৪) নামের তিন ছেলে রয়েছে। তবে পিতা বাদলের দাবি সাইমন তার সন্তান নয়, আইমান এবং নাঈম তার সন্তান। আইমান ও নাঈমকে সাইমন প্রায় সময় মারধর করতো। এ নিয়ে বাদল মিয়ার ভেতরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

এই পুলিশ পরিদর্শক জানান, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে আইমান ও নাঈমকে মারধর করে সাইমন। এরপরই বাদল মিয়া সিদ্ধান্ত নেন, সাইমন ‘তার নিজের’ দুই ছেলেকে মারধর করে। তাই সাইমনকে মেরে ফেলবে সে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার সকালে সাইমনকে ঘাস কাটার কথা বলে জমিতে নিয়ে যায় বাদল মিয়া। সেখানে কাঁচি দিয়ে সাইমনের গলাকেটে হত্যা করে বাদল মিয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুযায়ী নিহত শিশুর বাবা বাদল মিয়াকে পুলিশের সন্দেহ হয়। শনিবার রাতে তাকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। প্রথমে সে টালবাহানা করলেও পরে হত্যার কথা স্বীকার করে। এই ঘটনায় বাদলের স্ত্রী মিলি বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply