উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউএনওকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

|

নড়াইল প্রতিনিধি: 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে জিডি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন। ভুয়া প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর না করায় হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে বুধবার থানায় জিডি দায়ের করেন (জিডিনং-১৫৭৬, তাং- ২৮/২/১৮) তিনি । পুলিশ বলছে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু ২০১৭ সালের ২৯ জুন কিছু ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ নিয়ে আসেন এবং উক্ত বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্বাক্ষর করতে বলেন। কিন্তু ভুয়া প্রকল্প হওয়ায় ইউএনও স্বাক্ষর না করায় ৩৯ লাখ টাকা ফেরত চলে যায়। এর পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে এবং টেলিফোন ও মোবাইলে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান।

তিনি জিডিতে আরও উল্লেখ করেছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তিনি তৎকালীন প্রকাশ বিকাশ বাহিনীর সহযোগী এবং ডাকাত ছিলেন। তিনি একজন পেশাদার খুনি। সম্প্রতি তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন।

তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করায় দুর্নীীত দমন কমিশনের দায়েরকৃত কয়েকটি মামলায় আসামি হয়েছেন। অব্যাহত হুমকি এবং টেলিফোনের আলাপচারিতায় জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি থানায় জিডিটি দায়ের করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু বলেন ‘‘ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট’। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন ঘুষখোর অফিসার। তিনি দু হাত দিয়ে ঘুষ খান। এ ব্যাপারে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষজন অবগত রয়েছেন। তার সাথে আমার কোন বিষয়ে দ্বন্ধ নাই, শত্রুতাও নাই। প্রয়োজন ছাড়া তার সাথে আমার ফোনে কোন কথা হয় না’।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









Leave a reply