উচ্চমাধ্যমিকে ১ম স্থান অধিকারী মুসলিম কন্যা রুমানা, ধর্মীয় পরিচয় ইস্যুতে বিতর্ক উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

|

শিক্ষা সংসদের প্রধান মহুয়া দাসের মন্তব্যে উত্তাল এখন পশ্চিমবঙ্গ।

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সময় প্রথম হওয়া মুসলিম ছাত্রীর নাম প্রকাশ না করে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করা নিয়ে বিতর্ক চলছে পশ্চিমবঙ্গে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শিক্ষা সংসদের প্রধান মহুয়া দাস। মেধা বাদ দিয়ে ধর্মকে তুলে ধরার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ করছে ছাত্র-শিক্ষকরা। উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনীতিতেও। বিজেপির অভিযোগ, মুসলিম তোষণের জন্যই ধর্মীয় পরিচয়কে বড় করে দেখাচ্ছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস।

এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছেন মুসলিম কোনো ছাত্রী। ফল ঘোষণার সময়, নাম বাদ দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তার ধর্মীয় পরিচয়টাই বারবার তুলে ধরেন শিক্ষা সংসদের প্রধান মহুয়া দাস। এতেই চটেছেন রাজ্যের রাজনীতিবিদ সহ সাধারণ মানুষ।

উচ্চমাধ্যমিকে ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯৯ পেয়ে প্রথম হওয়া মুর্শিদাবাদের মেয়ে রুমানা সুলতানার বাড়িতে যখন খুশির বন্যা, তখন তার ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ নিয়ে উত্তপ্ত কলকাতার রাজপথ। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাজ্যের শিক্ষাভবনের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েকটি সংগঠন। পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিও হয় বিক্ষোভকারীদের। বিষয়টি নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনীতিতেও।

বিজেপি’র অভিযোগ, ভোটব্যাংক তোষণের জন্য ধর্মীয় পরিচয়কে বড় করে দেখাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে যে ছাত্রী প্রথম স্থান পেলেন সংসদের তরফে তার নাম একটি ঘোষিত ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হলো। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। আমাদের মনে হচ্ছে, এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে শুধু রুমানা সুলতানা নামের ওই কৃতীকে অপমান করা হয়েছে তাই নয়, সামগ্রিকভাবে একটি সমাজকে, একটি সম্প্রদায়কে অপমানিত করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। যিনি এই ঘোষণা করেছেন, তার সম্পর্কে রাজ্য সরকারের অবস্থান কী? তার সম্পর্কে শিক্ষা দফতরের বক্তব্য কী? কাউকে খুশি করতে গিয়ে কি তিনি এই বিবৃতি দিয়েছেন। হয়তো রাজ্য সরকারের নির্দেশে একটি নির্দিষ্ট বার্তা দেয়ার জন্য এভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষা সংসদ সভাপতিকে ইতোমধ্যেই ১ম স্থান অধিকারিণী সেই ছাত্রীর ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে নিজের বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে সাফাই গেয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রধান মহুয়া দাস। তিনি বলেন, আবেগের বশে ওই ছাত্রীর ধর্ম পরিচয় মুখে এসেছিল। এর মধ্যে অন্য কোনও কারণ খোঁজা অনর্থক।

এত বিতর্ক যাকে ঘিরে, সেই রুমানা মাধ্যমিকেও রাজ্যে পঞ্চম হয়েছিলেন। নিজেকে কেবল শিক্ষার্থী পরিচয়েই দেখতে চান তিনি। রুমানা জানান, ফলের কথা বলতে গিয়ে মুসলিম শব্দটি না বললেই ভাল হতো। একজন ছাত্রী হিসেবে সম্বোধন করলেই তিনি বেশি খুশি হতেন। তবে এ নিয়ে আর বিতর্ক চাইছেন না রুমানা ও তার পরিবার।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply