‘ব্যক্তিগত জীবনে চরম অসুখী ছিলেন শ্রীদেবী’

|

কর্মসূত্রে শ্রীদেবীকে খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল রামগোপাল বর্মার। অভিনেত্রীর মৃত্যু পর আবেগতাড়িত একটি খোলা চিঠি লেখেন রামগোপাল বর্মা । যাঁকে সারা পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ চাইত, তিনি ছিলেন নিজের জগতে একলা, নিঃস্ব। ছিলেন একজন খাঁচায় বন্দি পাখি। শ্রী দেবীকে নিয়ে এমনটাই বললেন পরিচালক রামগোপাল বর্মা।

চিঠিতে রামগোপাল লিখেন ‘ব্যক্তিগত জীবনে চরম অসুখী ছিলেন। সাদা চোখে যা দেখা যায়, তার থেকে বাস্তব জীবন কতটা বিপরীত হতে পারে, তার চরম দৃষ্টান্ত ছিলেন শ্রীদেবী।’

চিঠিতে এ নায়িকার অকাল মৃত্যুতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন- ‘অনেকের কাছেই শ্রীদেবী ছিলেন একেবারে ‘পারফেক্ট’। সুন্দর মুখ, দুরন্ত প্রতিভা, সুখী সংসারে থিতু- দুটি ফুটফুটে মেয়ের মা। বাইরে থেকে সব কত ঈর্ষাজনক, লোভনীয় মনে হতো। কিন্তু শ্রীদেবী কি ব্যক্তিগতজীবনে সত্যিই সুখী ছিলেন?’

null

পরিচালক লিখেছেন- ‘বাবা বেঁচে থাকতে শ্রীদেবীর জীবন ছিল মুক্ত বিহঙ্গের মতো। তার মৃত্যুর পর মায়ের হাতে পড়ে খাঁচায় বন্দি পাখির দশা হয়েছিল তার। সবকিছুতেই মায়ের কড়া নজর থাকত…। বনি কাপুরকে যখন বিয়ে করেছিলেন শ্রীদেবী, তখন তিনি প্রায় কপর্দকশূন্য। বনির অবস্থাও তখন বেশ খারাপ। টাকা-পয়সা নেই বললেই চলে। মায়ের মৃত্যুর পর অভিনেত্রীর একমাত্র বোন শ্রীলতা বাড়ি থেকে পালিয়ে তার প্রতিবেশীকে বিয়ে করেন। এবং সম্পত্তির ভাগ দাবি করেন। যদিও সম্পত্তির সবই ছিল শ্রীদেবীর কষ্টার্জিত উপার্জন। তার মা তাকেই সব দিয়ে গিয়েছিলেন…। সারা দেশের নয়নমণি ছিলেন তিনি। অথচ কঠিন সেই সময়ে এক বনিকে ছাড়া কাউকেই পাশে পাননি শ্রীদেবী। স্ত্রী নামি সাংবাদিক মোনা শৌরিকে বিচ্ছেদ দিয়ে ১৯৯৬–এ শ্রীদেবীকে বিয়ে করেন বনি। এক পাঁচতারকা হোটেলে সন্তানসম্ভবা অভিনেত্রীর পেটে লাথি মেরেছিলেন বনির মা! বউমা মোনার ঘরভাঙার জন্য তাকে দায়ী করেছিলেন।

রামগোপাল আক্ষেপ করেছেন, সারাজীবন দুঃখকষ্টই পেয়েছেন শ্রীদেবী। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে আসা। স্বাভাবিক জীবনের স্বাদই পাননি। ফলে গভীর অসুখী ছিলেন। অন্তরের ব্যথা ঢাকতে নিজেকে বাইরে থেকে বেশি সুন্দর রাখতে খুবই উদ্যোগী ছিলেন শ্রীদেবী।

রামগোপাল লিখেছেন- ‘খুব লাজুক ছিলেন শ্রীদেবী। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। আত্মবিশ্বাস বলে কিছুই ছিল না। আর সব সময় আতঙ্কে থাকতেন- পাছে কেউ তার মনের অবস্থা বুঝে ফেলেন! তাই একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখতেন, যা সহজে ভেদ করা যেত না।’

রাম গোপাল বর্মা আরও  লিখেছেন- নিজস্ব মতামত ছিল না বলেই কখনও বাবা–মায়ের, কখনও আত্মীয়স্বজন, স্বামী- এমনকি সন্তানদের ইচ্ছেতেও সায় দিতে হতো। একেবারে শিশু বয়সে খ্যাতি পাওয়ায় স্বাধীনচেতা হওয়ার সুযোগ ঘটেনি, যা ইচ্ছে তাই করার সাহস হয়নি। তাই ক্যামেরার সামনেই শুধু নয়, পেছনেও ‘মেকআপ’ করে থাকতেন শ্রীদেবী। মনের অবস্থা ঢাকার একটা চেষ্টা করতেন। একই সঙ্গে অন্য অভিনেত্রীর মতো বয়স বাড়া তাকেও বিচলিত করত। বয়স ঢাকার জন্য অনেক অস্ত্রোপচারও করতেন। বহু বছর ধরে করেছেন। তা দেখেই অনুমান করা যেত। তবে কোনো কিছুই তার বেদনা ঢাকতে পারেনি। তার চোখে বেদনা দেখা যেত। ব্যক্তিগতজীবনে বারবার আঘাতে জেরবার হয়ে সহজে বিশ্বাস করতে পারতেন না।

পরিচালক লিখেছেন- অনেক পরিচিতের মতোই বাথটাবে ডুবে শ্রীদেবীর মৃত্যুর ঘটনাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। তার অনুমান, এর পেছনে অবসাদের ওষুধ আছে! লিখেছেন, ‘অবসাদে অনেকে আত্মহত্যা করেন। অনেকে অবসাদ মেটাতে কাঁড়ি–কাঁড়ি ওষুধ খান। বোঝেনও নাকি মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে!’

‘গ্রেট রবারি’, ‘গোবিন্দা… গোবিন্দা’, ‘হয়রান’–এর মতো পর পর ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন রামগোপাল বর্মা ও শ্রীদেবী তেলেগু ছবি ‘ক্ষণ ক্ষণম’–এর সেটে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় রামগোপালের।









Leave a reply