বিদায় বাংলাদেশের বন্ধু সায়মন ড্রিং

|

সায়মন ড্রিং।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রথম যিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সেই অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং আর নেই। গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) রুমানিয়ার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যুবরণ করেন সায়মন ড্রিং।

একাত্তরের মার্চ। পূর্ব পাকিস্তান তখন ফুঁসে উঠেছে। প্রস্তুতি চলছিলো মুক্তিযুদ্ধের। সায়মন ড্রিং তখন ব্রিটিশ দৈনিক দ্যা টেলিগ্রাফের সাংবাদিক। মার্চ এর ৬ তারিখে তিনি ঢাকা আসেন। বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন বাংলাদেশকে।

২৫ মার্চ এর কালরাতের চাক্ষুস সাক্ষী ছিলেন সায়মন। পাকিস্তানী সৈন্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে বেরিয়ে পড়েন ২৭ মার্চ সকালে। লিখেন- ট্যাংক ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান শিরোনামে এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন। তারপর পরই প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশে পাকিস্তানী বর্বরতার চিত্র। বিশ্ব জনমত চলে আসে মুক্তিকামী বাঙালির পক্ষে।

জীবনের ঝুঁকি ছিলো নিঃসন্দেহে, কিন্ত সায়মন ড্রিং তোয়াক্কা করেননি। ১৯৭১ এর ৩০ মার্চ লন্ডনে ফিরে গেছেন। আবারও ফিরে এসেছেন নভেম্বরে। কলকাতা থেকে প্রচার করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ।

ত্রিশ বছর পর আবারও বাংলাদেশে আসেন ড্রিং। এ দেশের প্রথম আধুনিক বেসরকারি টিভি একুশে টেলিভিশন গড়ে তোলেন নিজ হাতে। তবে ২০০২ সালে সে সময়ের সরকার তাকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করে। এরপর আবার ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আসেন সায়মন।

বাংলাদেশে বিশ্বমানের সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন গড়ে তোলার লক্ষ ছিলো তার। মানসম্মত ও পেশাদার সাংবাদিক, কলাকুশলীদের নিয়ে আসেন এক ছাদের নিচে। তার প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত হতে থাকে যমুনা টেলিভিশন। বস্তুনিষ্ঠতায় সংবাদভিত্তিক এই টেলিভিশন এখন জনপ্রিয়তায় শীর্ষে। নিজ হাতে সৃষ্টি করলেও পারিবারিক কারণে এক পর্যায়ে চলে যেতে হয় তাকে।

সাইমন ড্রিংয়ের জন্ম ইংল্যান্ডে, ১৯৪৫ সালে। তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন ১৮ বছর বয়স থেকে। দেখেছেন ২২টি যুদ্ধ,অভ্যুত্থান ও বিপ্লব। শুক্রবার চিরবিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সায়মন ড্রিং।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply