কবি বিষ্ণু দে’র জন্মদিন আজ

|

কবি বিষ্ণু দে। ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৮ জুলাই, কবি বিষ্ণু দে’র জন্মদিন। রবীন্দ্রোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার পাঁচ মহাপুরুষের অন্যতম বিষ্ণু দে। তিরিশি কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম পাণ্ডব তিনি। তিরিশি কবিতার অন্য চারজন পাণ্ডব হলেন, জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪), অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-৮৭), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-৭৪), সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-৬০)।

১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণ করা কবি বিষ্ণু দে ১৯২৭ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৩০ সালে আইএ এবং ১৯৩২ সালে বিএ পরীক্ষায় কৃতকার্য হন। পরে ১৯৩৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ পাশ করেন।

১৯৩৫ সালে রিপন কলেজে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বিষ্ণু দে। সেখানে তিনি সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলেন কবি বুদ্ধদেব বসুকে। বিষ্ণু দে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ‘পরিচয়’ পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি নিজেও ‘সাহিত্যপত্র’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩), চোরাবালি (১৯৩৭), পূর্বলেখ (১৯৪১), সাত ভাই চম্পা (১৯৪৫), সন্দ্বীপের চর (১৯৪৭), অন্বিষ্ট (১৯৫০), নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫৩), আলেখ্য (১৯৫৮), তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮), স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত (১৯৬৩), সেই অন্ধকার চাই (১৯৬৬), সংবাদ মূলত কাব্য (১৯৬৯) রুশতী পঞ্চাশতী (১৯৬৭) ইত্যাদি তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।

এছাড়াও বিষ্ণু দে বেশ কিছু গদ্যও রচন করেছেন। অনুবাদ কবিতায়ও তিনি বেশ বিখ্যাত ছিলেন। তার জন্মদিনে পড়া যাক তারই একটি কবিতা –

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন

তোমাদেরও মনে হয়, মনে হয় তোমারও প্রত্যেকে লেনিন?
লাজুক সুকান্ত ওই কথাটাই বলেছিল কৈশোর সংরাগে বহুদিন আগে–
সহজ কিশোর বিনম্র কবি বাংলায় তার কথা শতবর্ষে জাগে।
কারণ লেনিন নন দেবতা বা পুরাণ-নায়ক, তিনি একালের বীর,
স্থির ধীর, ভাবুক, আত্মস্থ, নেতা, মানবিক; নিজেকে জাহির
কখনোই করেননি; এমনকি কোন্ এক সভাঘরে স্বয়ং লেনিন
লেনিনিস্ট অত্যুক্তিতে শোনা যায় উঠে যান সংকোচে বিরাগে।
তাই আজ মনে হয় যদি সারা দেশ ভাবে, ভাবেপ্রতিদিন
সাধারণ মানুষেরা, সকলেই, নিত্য ভাবে দীন হই নই কভু হীন,
তাহলে হয়তো প্রতি মাস হবে অক্টোবর, প্রতিদিন প্রত্যেকে লেনিন।
শুনেছি যে লেনিনেরও সাধ ছিল একদিন সকলেই হ’য়ে যাবে
শতায়ু লেনিন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply