বই মেলায় সুলতানা শিরীন সাজির দুটি বই

|

এবারের বই মেলায় বের হয়েছে সুলতানা শিরীন সাজির দুটি বই। রানুর আকাশ গল্পগ্রন্থ ও ভালোবাসার ফুলঝুরি কবিতার বই, দুটিই প্রকাশিত হয়েছে পূর্বা প্রকাশনী থেকে।

“রানুর আকাশ”এর লেখাগুলোতে কখনো সত্যিকার আমি ,কখনো আমার আমি, কখনো অন্য কোন আমি হয়ে লিখেছি। নিজের যে জায়গা, সেখান থেকে তো আর সব লেখা হয়ে ওঠেনা! যেখানেই যাই, চোখ যা দেখে, মন যা দেখে, ধরে রাখি। লিখতে বসলেই সে সবই চলেই আসে ঘুরে ফিরে। মানুষের মন বড় অদ্ভুত। মনের গতি আলোর গতির চেয়েও গতিশীল। হয়তো আমি কারো কথা মনে করছি। আর আশ্চর্য্যজনক ভাবে সে একই সময়েই আমার কথা ভাবছে। জার্মান সাইকোলোজিস্ট ম্যাক্স দেসোর একে টেলিপ্যাথী নাম এ সংজ্ঞায়িত করেছেন। লিখতে বসলে মন তো উড়তে থাকে,পাখির মত। মনের ডানা নেই কিন্তু ওড়া আছে। মন বলে কি কিছু আছে ? এই সেদিনই আমার এক বন্ধু প্রশ্ন করেছে। যা নেই তা নিয়ে তো প্রশ্ন হয়না। যা আছে তা নিয়েই কত প্রশ্ন জমা হয়। মন হলো এক অদ্ভুত অনুভূতির জায়গা। মন না থাকলে কি মানুষ হৃদয়হীন হয়? নাকি হৃদয়হীন মানুষের মন থাকেনা? হৃদয়ঘটিত যত অসুখ বিসুখ হয় মানুষের তাকি শুধু শরীরকে কেন্দ্র করেই? মনে কোন ছাপ কি লাগেনা? মনকে সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা সহজ না।মন তো মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত, ইচ্ছার উৎস। দেশ ছেড়ে বহুবছর প্রবাসী হলেও মন ঘুরে বেড়ায় দূরে কোথাও দূরে দূরে। ফেলে আসা প্রিয় দেশ, প্রিয় মানুষদের টান বুকের মধ্যে প্রিয় গানের মত বাজে। আর তাই এই দূর পরবাসে পথ হাঁটতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিস্তৃত হয়ে যাই কোথায় আমি! একই আকাশ ,একই পৃথিবী ,অথচ অচেনা মানুষদের কোলাহলে ঘুরে বেড়াই।

“ভালোবাসার ফুলঝুরি” শুধু একটা কবিতা বা কবিতার বই নয়। একটা জীবন। কলম কালিতে লিখে খুব স্বাচ্ছন্দ্য পাই। মনে হয় নিজেকে চিনতে পারি নিজের এই লেখাতে। মাঝে মাঝে ফেইসবুকের টাইমলাইনে বসেও টুকটাক লেখা হয়ে যায়। ভালো কিছু পড়লে লেখার তাড়না হয়। পড়তে পড়তেই লেখা আসে। এই লেখা ব্যাপারটাও কিন্তু অনেক ছোঁয়াচে। কিছু প্রিয় কবি আছে যাদের লেখা পড়লে ভীষনভাবে আক্রান্ত হই।লজ্জাবতীকে ছুঁয়ে দিলে যেমন পাতারা নুয়ে যায়। তেমন করেই আমি ভালো কবিতা পড়লে নুয়ে পড়ি। “ভালোবাসার ফুলঝুরি”র লেখা কবিতা গুলোর অনেকগুলো বেশ দীর্ঘ। নিজে আবৃত্তি করার কারণে কিছু কবিতা লিখি শুধু আবৃত্তি চিন্তা থেকে। কথার মত যা শুধু বয়ে যায়। এখানে অনেক কবিতাই সুরের ধারা একই মনে হতেই পারে। এটাই হয়তোবা আমি। প্রকৃতি যেমন করে আমাকে ভাবায়। মানুষ তার চেয়ে বেশি। সারাজীবন ধরে যেখানেই যাই মানুষ দেখি। হয়তো বাসে করে কোথাও যাচ্ছি। চেয়ে চেয়ে মানুষ দেখি। মানুষের মুখের ভাষায় বুঝতে চেষ্টা করি তাদের ভিতরকার মানুষকে। এটা একটা খেলার মত।। শব্দ সাজিয়ে লিখতে ভালো লাগে কবিতা। তার কতগুলো কবিতার গুনে গুনান্বীত,সেটা আমার জানা নেই। কিন্তু নিজেরই কেমন মায়া হয়ে যায়। আর মায়া মানেই তো টান। অদ্ভুত অপার্থিব এক টান। যাকে বলি ভালোবাসা।ভালোবাসা আমার কাছে সেই ম্যাজিক যা আছে মনে হলেই ফুলকি ছড়ায়। এত সুন্দর সেই ভালোবাসা, যার জন্য আজীবন সাধনা করতে হয়। ভালোবাসার দুঃখ কার থাকেনা ? হয়তো আমারো ছিল, আর ছিল বলেই হয়তোবা ভালোবাসা বুঝতে পারি। বেঁচে থাকা আলো হয়ে যায় এই ফুলঝুরি ভালোবাসায়।

লেখক সুলতানা শিরীন সাজি’র জন্ম লালমনিরহাট এ। বাবা ডাঃ ওমর আলী এবং মা নুরুননাহার বেগম। লালমনিরহাটে রেলওয়ে কলোনীর জীবন। রেলওয়ে ষ্টেশন,ট্রেন, লালমনিরহাটের প্রাকৃতিক নৈসর্গ্য বারবার ঘুরে ফিরে তার লেখায় আসে। ইডেন কলেজ এবং এরপর ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজী সাহিত্যে এম এ করেছেন। বিয়ের পর কানাডার মন্ট্রিয়লে চলে যান। এখন দুই ছেলে রাশীক, রাইয়ান এবং পথচলার সঙ্গী মান্নান মোহাম্মদ মিঠুকে নিয়ে অটোয়ায় থাকেন। প্রবাস জীবনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের আয়োজনে। নিজে রবীন্দ্র সংগীত করেন, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন। শিরীন সাজির কবিতায় ভালোবাসা ছলকায়,এটা পাঠকদের অনুভূতি। নিজের লেখা নিয়ে তার কথা হলো,জীবনের বেঁচে থাকা ভালোবাসাতেই মূর্ত হয়ে ওঠে।গভীর অন্ধকারে ছোট্ট জোনাকীর দল যেমন পথ দেখায় পথিককে, ভালোবাসার আলোতেই জীবনের বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব বলে তার বিশ্বাস। আর ভালোবাসার সেই অমল ধবল বোধ, যার অনুরণন চলে সারাজীবন ধরেই।

প্রকাশিত বইঃ এক জোছনায় তুমি আর আমি, কফির পেয়ালায় নিশুত রাত জাগে, বিষণ্ণতায় একা এবং অপ্রকাশিত চিঠি(চিঠি কাব্য) ।

 









Leave a reply