‘মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে সংকোচের পরিস্থিতি যেন ফিরে না আসে’

|

মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে সংকোচ হয়, দেশে এমন পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছিল, তাদের যেন জাতি ক্ষমা না করে।

শনিবার বিকেলে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি, অন্য ভাষা চর্চা করতে হবে। মাতৃভাষা চর্চার শিক্ষা পরিবার থেকে শুরু করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতিসত্তার পথ দেখিয়েছিল। বাঙালির প্রতিটি অর্জনের জন্যই আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আবারও অন্ধকারের দিকে যাত্রা শুরু হয়।

এখন মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে ভয় পায় না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এমন একটি সময় দেখেছি মানুষ নিজে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে সাহস পেতেন না। সরকারি চাকরি পেতে মুক্তিযোদ্ধা কথাটি লিখতেও ভয় পেতেন। কারণ, তাহলে চাকরি পাবেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই অবস্থা বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, দীর্ঘ ৯ বছর আমরা সরকারে থাকার কারণে এখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে মানুষ গর্ববোধ করেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষার চর্চা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নাকি বাংলা ভাষায় পড়ানো হয় না। এটা কেন? কেন বাংলায় পড়ানো হবে না। আমরা দাওয়াতের কার্ডও এখন বাংলা ভাষায় লিখতে চাই না। মনে হয় এটা যেন ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। এটা কেন হচ্ছে জানি না। বিয়ের কার্ডটাও কেন বাংলা ভাষায় লেখা হবে না। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা, কাজেই আমরা ইংরেজি শেখার বিপক্ষে নই। কিন্তু,যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি তার চর্চা করবো না কেন?

প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন উচ্চ আদালতের রায়ের ভাষা নিয়েও। বলেন, উচ্চ আদালতের রায় ইংরেজিতে লেখা হয়। আমাদের অনেকে আছেন ইংরেজি বোঝেন না। তার উকিল যা বোঝাবেন তাকে তা বুঝতে হচ্ছে। সেই উকিল সাহেব ঠিকমতো বোঝাতে পারছেন নাকি আরও কিছু টাকা খসানোর বা পকেট খালি করার জন্য অন্যভাবে বোঝাচ্ছেন তা কিন্তু তার মক্কেল বুঝতে পারেন না। তবে, এখন নিম্ন আদালতে মোটামুটি বাংলায় রায় লেখা শুরু হয়েছে।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply