প্রশ্নবিদ্ধ ফোর-জি সেবার মান

|

দেশজুড়ে ফোর-জি চালু হলেও সেবার মান উন্নয়নে দরকার অধিকতর বিনিয়োগ। এ নিয়ে উদ্বেগে আছে মোবাইল অপারেটররা। তাদের দাবি, দেশজুড়ে এ সেবা পুরোপুরি চালু করতে হলে, সবক’টি অপারেটর মিলে বিনিয়োগ করতে হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু, ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি না হওয়ায়, থ্রি-জি’র মতো ফোর-জি সেবাতেও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। আর প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি না হলে, কাঙ্খিত মানে পৌঁছাবে না ফোর-জি সেবা।

প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি দেয়া হয় ফোর-জি’র লাইসেন্স। পরদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সীমিত পরিসরে এই সেবা চালু করে তিনটি অপারেটর। তবে, তরঙ্গ আর প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা পেলেও, ফোর-জি’র সেবা পুরো চালু করতে সহায়ক ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে। সেটি করা না হলে, বিনিয়োগ নিরাপদ নয় বলে জানাচ্ছে অপারেটররা।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে কেউ অ্যাগ্রেসিভ আকারে ইনভেস্ট করবে তার জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নেই। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে আগাতে না পারলে সেটা দেশের জন্য, মানুষের জন্য, সর্বোপরি আমাদের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।

ফোর-জি’র জন্য নিলামে তোলা তরঙ্গের দুই-তৃতীয়াংশই অবিক্রিত রয়ে গেছে। অপারেটররা বলছে, উচ্চ দামের কারণে চাহিদা পূরণ করতে পারেনি তারা। থ্রি-জি চালু পরবর্তী বিনিয়োগ নিয়েও ক্ষতির মুখে পড়ে অপারেটররা। সেকারণেই, ফোর-জি’র জন্য আগামী দুই-তিন বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চাহিদা নিয়ে আশঙ্কায় তারা।

অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, প্রতিটা দেশেই যখন স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণ করা হয় তখন একটা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই সেটি করা হয় যে এটি দেশের জন্য, গ্রাহকের জন্য, সার্ভিস প্রোভাইডারে জন্য কতখানি উপযুক্ত হবে। আমাদের এখানে সে জায়গাটা বিবেচনা করা হয়নি।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, যথাযথ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে ফোর-জি সেবা।

অপারেটররা কি বিনিয়োগের সক্ষমতা হারিয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে ফাইব্যার এ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাব্বির বলেন,  হারিয়ে ফেললে সেটা বিবেচনায় নেয়া উচিত। অন্যথায়, বিটিআরসি’র কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে ও পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ দিলে সেবার মান নিশ্চিত না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ফোর-জি সেবা বিস্তৃতির লক্ষ্যে, সিম রিপ্লেসমেন্ট আর হ্যান্ডসেটের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন অপারেটররা।

যমুনা অনলাইন: এমআর/টিএফ









Leave a reply