সত্যি সত্যিই কি এলিয়েন আছে?

|

১৭ বছরে অন্তত ১৪৪ বার আকাশে ‘রহস্যজনক উড়ন্ত বস্তু’ বা ইউএফও দেখেছেন মার্কিন বৈমানিকরা। এসব যান কোত্থেকে এসেছে, এর যাত্রী কারা-তার কোনো ব্যাখ্যা নেই বিজ্ঞানের কাছে। তাহলে কি সত্যি সত্যিই এলিয়েন আছে? অত্যাধুনিক ফ্লাইং সসারে চড়ে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভিনগ্রহের বাসিন্দারা? মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের বহুল আলোচিত রিপোর্ট প্রকাশের পর জোরেশোরে উঠেছে এ প্রশ্ন।

পৃথিবীর বাইরেও কি প্রাণের অস্তিত্ব আছে? ভিনগ্রহের কেউ কি আমাদের ওপর নজরদারি করছে? এমন প্রশ্ন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই মানুষের। সায়েন্স ফিকশন, ভিডিও গেমস কিংবা চলচ্চিত্র-নানা মাধ্যমে নানাভাবে উঠে এসেছে এলিয়েন আর তাদের রহস্যজনক যান। কিন্তু ফ্লাইং সসার কি শুধুই কল্পনা? নাকি বাস্তবেও অস্তিত্ব আছে এর?

পৃথিবীর আকাশে এমন রহস্যজনক বস্তুর অস্তিত্বের কথা শোনা যায় ৪০-এর দশক থেকেই। তবে বরাবরই বিষয়টি গুঞ্জন কিংবা দৃষ্টিভ্রমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিলো। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করলো, আন আইন্ডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্ট বা ‘ইউএফও’র অস্তিত্ব। গেল দেড় দশকে এমন ১৪৪টি উড়ন্ত বস্তুর রিপোর্ট পেয়েছে পেন্টাগন। কিছু ধরা পড়েছে রাডার বা সেন্সরে। ১১টি ক্ষেত্রে নিজ চোখে ইউএফও দেখার কথা জানিয়েছেন সামরিক বাহিনীর পাইলটরা। কেউ কেউ তো এমনও বলেন যে তারা সাদা আয়তাকার বস্তুটিকে অদ্ভুতভাবে ছুটতে দেখেছেন।

কয়েকজন পাইলট জানিয়েছেন, দুর্গমতম এলাকা কিংবা নির্জন মহাসাগরে রহস্যজনক যানের অস্তিত্ব দেখে চমকে যাওয়ার কথা। কয়েকটি ক্ষেত্রে অল্পের জন্য ইউএফও’র সাথে সংঘর্ষ এড়িয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান। পাইলটরা বলছেন, অবিশ্বাস্য দ্রুত গতি সেসব যানের, গঠন বা গতিবিধি এখন পর্য়ন্ত মানুষের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সক্ষমতার বাইরে।

মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশে শুক্রবার ইউএফও নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে পেন্টাগন। আকাশে রহস্যজনক যানের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও এর কোনো ব্যাখ্যা নেই পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর কাছে। এসব যান অপার্থিব কিছু কিনা-প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে তা বলা হয়নি, আবার সে সম্ভাবনা নাকচও করা হয়নি। তাই ইউএফও কী কিংবা এর সক্ষমতাই বা কী-সে রহস্যের কূলকিনারা হয়নি।

মার্কিন সামরিক বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লুইস এলিজোন্ডো বলেন, আমি বলছি না এর অস্তিত্ব নেই। প্রশ্ন হলো এটা কি? উদ্দেশ্য কি? এর সক্ষমতাই বা কি? ভাবুনতো এমন এক প্রযুক্তি যা রাডারে ধরা পড়ে না, বাতাসে, পানিতে এমনকি সম্ভবত মহাশূন্যেও চলতে পারে।

২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত চলা ‘দ্য অ্যাডভান্স অ্যারোস্পেস থিয়েটার আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ নামের প্রকল্পে ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৭-তে ওই গোপন কর্মসূচি নিয়ে এক কোটি ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করে সিআইএ।

পেন্টাগন প্রতিবেদন দিলেও অপার্থিব বা ব্যাখ্যাতীত যানের অস্তিত্ব মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পণ্ডিত। অনেকে তো মনে করেন, যুদ্ধবিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ এসব ইউএফও।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply