সন্তানহীনদের যেসব কথা কখনও বলবেন না

|

এমন অনেক দম্পতি আছেন যাদের বিয়ে হয়েছে অনেক বছর হয়েছে, কিন্তু কোনো সন্তান নেই। তাদেরকে আত্মীয়, পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব অনেকেই আছেন এ নিয়ে নানান প্রশ্ন করেন। এ সব প্রশ্ন অনেক সময় বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এমনকি এ সব প্রশ্নে কষ্টও পেয়ে থাকেন অনেক দম্পতি।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ৫টি প্রশ্ন কখনোই করবেন না, সন্তানহীন দম্পতিদের:

১. বয়স তো পেরিয়ে যাচ্ছে, কবে বাচ্চা নিবে?

বয়স কত হলো? ও, তা বয়স তো পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনও বাচ্চা নিচ্ছ না কেন? এখন না নিলে পরে আরও জটিলতা বাড়বে। সন্তানের এটা-সেটা সমস্যা হবে। এ ধরনের প্রশ্ন করা লোকের কিন্তু অভাব নেই।

বেশি বয়সে বাচ্চা নিলে যেমন সমস্যা হওয়ার শঙ্কার কথা ডাক্তাররা বলছেন। ঠিক তেমনি, এমন অনেক গবেষণা কথা বলা হচ্ছে-যাতে দেখা গেছে বেশি বয়সে বাচ্চা নিলেও জটিলতাগুলো এড়ানো সম্ভব।

সুতরাং, এ ধরনের প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার স্বাধীনতায় বাগড়া দিবেন না।

২. জীবনের আসল আনন্দটাতো মিস করছো

অনেক চেষ্টা করেও নিজ সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন না এমন অনেক দম্পতিই আছেন। এ নিয়ে প্রকাশ্য দ্বন্দ-বিরোধ তো আছেই, আবার কখনও তারা মুখে না বললেও ভেতরে ভেতরে চাপা একটা আক্ষেপ-অপ্রাপ্তি এমনিতেই ওই দম্পতিকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়ায়। অযথা তা মনে করিয়ে দিয়ে সেই আক্ষেপের জ্বালায় বাড়তি জ্বালানি যোগানোর কি প্রয়োজন আছে? আপনার ক্ষেত্রে অমনটি ঘটলে কেমন হতো, এ বিষয়টি আগে ভাবুন। তারপর প্রশ্নটি করবেন কিনা বা করা যায় কিনা একটু উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন।

৩. এটা স্বার্থপরের মতো সিদ্ধান্ত

পেশাগত তাগিদ আর উন্নতি করতেই হোক, কিংবা জীবনের মোক্ষ উদ্দেশ্য হোক; অনেকেই আছেন ব্যস্ততার কারণে সন্তান নেন না। আপনি হয়তো বেফাঁসে বলে বসলেন, সন্তান নিচ্ছ না কেন বাপু, এ তোমাদের ভীষণ স্বার্থপরতা।

দিলেন তো একেবারে সব মাটি করে। কে সন্তান নেবে কি না নেবে, তা ওই ব্যক্তি ও তার জীবন সঙ্গীর খুবই একান্ত একটি বিষয়। একেতো প্রশ্নটি করে কারও দাম্পত্য জীবনের মাঝে অনধিকার চর্চা করছেন। আবার উল্টো স্বার্থপর বলে গালমন্দটাও করলেন!

এ বিষয়ে কেউ স্বার্থপর হবে কিনা তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এতে কি আপনার স্বার্থ লঙ্ঘিত হচ্ছে? মোটেই না। তবে এ প্রশ্নটি না করলেই ভালো নয় কি!

৪. এমন ভয়ংকর পৃথিবীতে সন্তান না নেওয়াটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত

‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’- এ কথাটি সবাই বলে থাকেন। সবাই বর্তমান সময় থেকে অতীতের সময় বা পৃথিবীকে অনেক বেশি বাসযোগ্য ও নিরাপদ মনে করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন সময়টা সমস্যা বা বাসযোগ্যতার সংকট ছিল না, এটা আদতে কেউই বলতে পারবে না। এমন একটি বাস্তবতায় আপনি কাউকে বলে বসলেন, সন্তান না নিয়ে ভালো করেছ, যা দিনকাল পড়েছে। এমন কলিকালে সন্তান নিয়ে কি করবে।

এমন তো হতে পারে যাকে বলছেন, তিনি এবং তার সঙ্গী মিলে সন্তান নেওয়ার কথায় ভাবছেন। প্রথম সন্তান নিয়ে প্রত্যেক দম্পতিই নানা রকম অনিশ্চয়তা ও দুঃশ্চিন্তায় ভোগেন, তার ওপর আপনার ওই বক্তব্য তাকে বা তাদেরকে আরও বেশি সংকটে ফেলে দিতে পারে।

৫. সন্তান লালন পালন অনেক খরচের, এর চেয়ে সুন্দর ছুটি কাটানো ভালো

শুধু খরচ বেশি এ জন্যই কি আপনি কাউকে সন্তান না নেওয়া পরামর্শ দেবেন? তবে পুরো পৃথিবীতে শুধু আর্থিকভাবে স্বচ্ছলদেরই সন্তান থাকতো। নাকি আপনি আপনার সন্তানদের নিয়ে খুশি নন। আপনি খুশি কি অখুশি, তা আপনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এটি আপনি কোনো মতেই আরেক জনের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। তাও শুধু মাত্র আর্থিক কারণ দেখিয়ে, এবং যার বা যাদের এখনও কোনো সন্তান নেই।

আর বাচ্চাদের নিয়ে ছুটি কাটানো যায় না এমনও তো নয়। শত শত ভ্রমণ বিষয়ক সাইট আছে, যেখানে চমৎকার লেখা, তথ্য, পরামর্শ দেওয়া আছে- কীভাবে বাচ্চাদের নিয়ে আনন্দঘন পারিবারিক সময় কাটানো যায়। ওই সাইটগুলো দেখলে যে কারোরই অমন করে সময় কাটাতে ইচ্ছা করবে, এটা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়।

সন্তানহীন কোনো দম্পতি বা ব্যক্তিকে ওপরের কথাগুলো বলবেন না। আর যদি আপনি কোনো মতে আপনার পেটে কথা রাখতে পারেন না, তবে ভাবুন। মুখের কথা, আর বন্দুকের ছোঁড়া গুলি একবার বের হয়ে গেলে আর কিন্তু ফেরানো যায় না।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply