ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কিছু নেই: শেখ হাসিনা

|

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নিয়ে ভারতকে উদ্বিগ্ন না হতে বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, শুধুমাত্র দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই চীনের সাথে এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ কথা জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের দৃষ্টি শুধুমাত্র উন্নয়নের দিকে নিবদ্ধ। এজন্য, প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারে এমন যেকোনো দেশের সাথে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিনিয়োগ চাই, সহযোগিতা চাই, সেটি যেখান থেকেই আসুক না কেন।  কারণ, আমরা দেশের উন্নয়ন করতে চাই। দেশের মানুষের কথা আমাদের চিন্তা করতে হয়, যারা উন্নয়নের ফলে লাভবান হচ্ছে। ভারতীয় সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

ভারত, চীন, জাপান এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশে আসছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কিছু নেই। আমি বরং পরামর্শ দেব বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সুসম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া উচিত ভারতের। তাহলে এই অঞ্চল দ্রুত উন্নতি করতে পারবে।

এসময়, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধনকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন সমুদ্র ও স্থলসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির উদাহরণ।

শেখ হাসিনা বলেন, কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করতে পারবো, অতীতে যেমনটি করেছি। আমরা একটি শক্তিশালী এশিয়া নির্মাণ করতে চাই। জানান, ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তার সরকারের আমলে দু’দেশের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে সমুদ্রসীমা ও স্থলসীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যৌথ প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের সাথে সামরিক সম্পর্ক জোরালো করতে চায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর আগে, বেইজিং জানায়, তারা বাংলাদেশকে ৬টি রেলপ্রকল্প (যার একটি ভারতের সীমানায়) নির্মাণে স্বল্পসুদে ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

বাংলাদেশে থাকা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে তা নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শেখ হাসিনা ভারতসহ ৫ রাষ্ট্রের সাথে সংলাপের নির্দেশ দিয়েছেন, যাদের মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত আছে। বর্ষাকাল আসছে, এসময় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে ফেলে রাখা সবপক্ষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, ৩ দিনের ‘বাংলাদেশ-ভারত গণমাধ্যম সংলাপে’ অংশ নিতে কলকাতা ও দিল্লী থেকে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে।

 









Leave a reply