ঠাকুরগাঁওয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দিতে ইউএনও’র শ্যালকের প্রতারণা

|

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামে অসহায় গরীব মানুষদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই উপজেলার ইউএনও এর শ্যালক তানবিন হাসান ও তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রকল্পের তালিকায় ঘর বঞ্চিত ভুক্তভোগীদের নাম না থাকায় ভুক্তভোগীরা ইউএনও এর শ্যালক তানবিন হাসান ও আবুল কালাম আজাদকে আটক করে।

এসময় ইউএনও এর শ্যালক তানবিন হাসান পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আবুল কালাম আজাদকে পুলিশে সোপর্দ করে ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসী। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ইউএনও এর শ্যালক তানবিন হাসানকে বাদ দিয়ে আবুল কালাম আজাদকে আসামি করে বুধবার মামলা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, প্রধান মন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলায় মোট ৯৩৬ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ঘর প্রতি নির্মাণ খরচ নির্ধারণ হয়েছে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী কোন ঠিকাদার ছাড়াই স্থানীয় ইউএনও নিজেই প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেবেন। এরই মধ্যে ৫৩৬টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৪০০টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে টাকা ছাড়া কাউকে ঘর দেওয়া হচ্ছেনা।

ভুক্তভোগীরা জানায়, উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলো হরিপুর উপজেলার ইউএনও আব্দুল করিমের শ্যালক তানবিন হাসান । তানবিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামের অসহায় দরিদ্র সাধারণ মানুষকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে ১৫-৩০ হাজার টাকা করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব টাকা ইউএনও এর হয়ে আদায় করেছিল তার শ্যালক তানবিন ও তারই সহযোগী আবুল কালাম আজাদ।

ভুক্তভোগী জহুরা খাতুন বলেন, সরকারি ঘর কিছু ফাঁকা রয়েছে, সেগুলো বিক্রি করা হবে। ঘর প্রতি ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। ঘর নেয়ার জন্য তাকে সহ অনেককেই এমন প্রস্তাব দেয় ইউএনওর শ্যালক তানবিন ও ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম আজাদ। সরকারি ঘর নেওয়ার জন্য তিনি আবুল কালাম আজাদকে জমি বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী সফিউর রহমান বলেন, ইউএনওর নির্দেশে সরকারি ঘর বিক্রি করা হবে বলে তাকে ঘর নেয়ার প্রস্তাব দেন আবুল কালাম আজাদ। ঘর নিতে তিনি গরু বিক্রয় করে ২৪ হাজার টাকা আবুল কালাম আজাদের হাতে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও তাকে কোন ঘর দেয়া হয় নাই। পরে জানতে পারেন প্রকল্প তালিকায় তার সহ অন্য ব্যক্তি যারা টাকা দিয়েছেন তাদের নাম নেই। তিনি এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন প্রধান মন্ত্রীর কাছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ের একজন কর্মচারী জানান, তানবিন ইউএনও সাহেবের সরকারি গাড়ি সবসময় ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউএনও সাহেবের বাড়িতেই থাকছে।

হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী বলেন, হরিপুরে মুজিব বর্ষে প্রধান মন্ত্রীর উপহার অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য ঘর নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে। যতগুলো ঘরের কাজ হয়েছে সবগুলো নিম্নমানের।

দোষ স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত মামলার আসামি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘরের জন্য ইউএনও এর শ্যালক তানবিন সহ এই টাকা নেয়া হয়েছিল। আর আবুল কালাম আজাদের মা রহিমা বেগম জানান, ইউএনও এর শ্যালককে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে, ইউএনও এর দুর্নীতি ঢাকতে তার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধান মন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছেন তিনি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে ইউএনও এর শ্যালক তানবিন হাসান পলাতক রয়েছে। বুধবার বিকালে রামপুর এলাকার সাইদুর রহমান বাদি হয়ে আটক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের এর মামলা করেছে। মামলায় ইউএনও এর শ্যালক তানবিন হাসান ঘটনার সহযোগী হিসেবে কাজ করে বলে উল্লেখ রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান হরিপুর থানা ওসি এস এম আওরঙ্গজেব ।

হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম নিজের ও শ্যালক তানবিন হাসানের দুর্নীতি ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শ্যালক তানবিন প্রকল্পের কাজ দেখাশোনা করছিলো। কোন প্রকার আর্থিক অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। অপরাধী কে হবে সেটি তদন্তের উপর নির্ভর করছে। এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।









Leave a reply