যেকোনো মুহূর্তে লকডাউন ঘোষণা হতে পারে সাতক্ষীরায়

|

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ঈদের পর থেকে সাতক্ষীরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। জেলায় গত এক সপ্তাহে নমুনা পারীক্ষায় পজেটিভ রোগীর গড় হার ৩৯ শতাংশ। রোগীর বাড়তি চাপ ও হাসপাতালে করোনা বেড না থাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে করোনা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না এমনটি জানা গেলেও তা অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, আজ শনিবার ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জন নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের করোনা বিষয়ক তথ্য কর্মকর্তা ডা. জয়ন্ত কুমার ঘোষ জানান, ভারত ফেরত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীর মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে করোনার নমুনা সংগ্রহকারীদের মধ্যে মোট ৩০ ভাগ করোনায় আক্রান্ত। গত সপ্তাহে এ আক্রান্তের হার ছিল ৪০ ভাগ। আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ভেরিয়েন্ট আছে কি না তা রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। এ সপ্তাহে আক্রান্তের হার একটু কম হলেও অবস্থা দৃষ্টে আগামীতে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদা জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার রোগীর জন্য ১০০ শয্যা আছে। গত সপ্তাহে ১০০ জনের বেশি রোগী ছিল। বর্তমানে ৪৯ জন রোগী ভর্তি আছে। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ৮টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৪টিতে করোনা পজেটিভ রোগী ভর্তি আছে।

ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়িক সংগঠনের সভাপতি আরাফাত হোসেন জানান, ভারত থেকে মালামাল নিয়ে ট্রাক চালক, হেলপার, খালাসি আসছে। তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ১৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ পথে কমবেশি মানুষ আসা যাওয়া করছে। সাতক্ষীরাকে নিরাপদ রাখতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়েত জানান, সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ভারতীয় ভেরিয়েন্ট পাওয়া যায়নি। ভারত ফেরত কয়েকজন পজেটিভ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোববার (৩০মে) জেলা করোনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হবে। লকডাউনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের গড় হিসেবে জেলায় সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশ। রোববার এ বিষয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। এখনই লকডাউন ঘোষণা করা সঠিক হবে কিনা সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে জেলাব্যাপী লকডাউন কার্যকর করা হতে পারে।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply