ঊষর আরব ভূমি কী সবুজে উচ্ছ্বল ছিল?

|

আরব দেশ বললে চোখে ভেসে ওঠে দিগন্ত বিস্তৃত ধু ধু মরুভূমি। তেল শিল্প নির্ভর উন্নয়নে মরুর বিস্তৃত প্রান্তর চিরে ঝা চকচকে কালো সাপের মতো রাস্তা হয়েছে বটে, কিন্তু একটু দুর্গম একলাকায় যেতে চাইলে বাহন বলতে মরু জাহাজ উটই একমাত্র ভরসা। সাইমুম, আর এক ফোঁটা পানির জন্য বেদুইনদের বইয়ে দেওয়া রক্ত গঙ্গা; আরবের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস।

কিন্তু সব সময় কী এমনই ছিল। বলতে পারেন, স্মরণাতীতকাল থেকে আরব দেশ তো এ রকমই রুক্ষ, ঊষর একটা ভূমি। এতে কোনো কালে সজীব প্রাণের ছন্দময় দোলা ছিল নাকি?

আলবৎ ছিল। এমন কথা কোনো রূপকথা গল্পের নয়, স্বয়ং পুরাতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তারা বলছেন, মাত্র ৬ হাজার বছর আগে আরবের ঊষর মরুর বুকে ছিল শ্যামলের অবারিত হিল্লোল। তৃণভোজী এমন কিছু প্রাণী সেখানে বাস করতো, যা এতদিন কল্পনার বাইরেই ছিল।

উত্তর-পশ্চিম আরবের শুয়াইমিস এবং জুব্বাতে সম্প্রতি ৬৬১৮টি প্রস্তরচিত্র গবেষণা করে এমনটিই জানিয়েছেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সাইন্স অব হিউম্যান হিস্টোরির একদল গবেষক।

প্রায় ৮ হাজার বছরের পুরোনো এই সব চিত্রে হরিণ জাতীয় প্রাণি কৃষ্ণসারমৃগ,ওরক্স এবং বুনো উটের সন্ধান পাওয়া গেছে। লেসার কুদু গোত্রের এক ধরনের হরিণ জাতীয় প্রাণির ছবি পাথরের গায়ে একেছে প্রাচীন আরবীয়রা যা এতদিন শুধু আফ্রিকাতেই পাওয়া যায় বলে ধারণা করা হত। এই সব জন্তু পানি, এবং অবারিত তৃণভূমি ছাড়া বাঁচতে পারে না।

এই থেকে গবেষকরা ধারণা করছেন, শুমাইমিসে সে সময় নদী ছিল, জুব্বাতে ছিল অসংখ্য হ্রদ। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বারিধারায় এ সব জলাশয় ছিল টইটম্বুর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গবেষণা আরব উপদ্বীপের পুরাতাত্ত্বিক ইতিহাসই আমূল বদলে দেবে।

অবশ্য আরব উপদ্বীপের নৃ-তাত্ত্ব্বিক ইতিহাস প্রায় ১০ লাখ বছরের পুরনো। এই ছবিগুলো কৃষিভিত্তিক সমাজের মানুষের হাতে আঁকা। কৃষির প্রচলন শুরু হওয়ার পর মানুষ ব্যাপকভাবে গবাদি পশুপালন আরম্ভ করে। নিয়ত খাবারের খোঁজে বের হওয়া, এবং খাবার প্রাপ্তির নিশ্চিতা তাদের দিয়েছিল অবসর সময়। সেই অবসরে প্রাচীন মানুষেরা দেয়ালে গায়ে গায়ে ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের শৈল্পিক মনকে।

ছয় হাজার বছর আগে আঁকা একটি চিত্রে দেখা গেছে ১৩ টি পোষা কুকুর নিয়ে একজন শিকারী ধনুকে তীর জুড়ছেন। দুটি কুকুর রশি দিয়ে বাঁধা। বিশ্লেষকরদের ধারণা, এই জনগোষ্ঠী অনেক আগে থেকেই কুকুরের সহায়তা নিয়ে শিকার করত। পাথরে আঁকা কুকুরের চিত্রগুলোর মধ্যে এটি এ যাবৎকালে পাওয়া সবচেয় পুরনো। এর আগে মিশরে পাঁচ হাজার ৫০০ শ’ বছর আগের একটি চিত্রে কুকুরের অবয়ব পাওয়া গিয়েছিল।

যমুনা অনলাইন: এনপি/এফএইচ









Leave a reply