জুননু রাইনের প্রথম কবিতার বই ‘এয়া’

|

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮ তে প্রকাশিত হল কবি জুননু রাইনের প্রথম কবিতার বই ‘এয়া’। প্রকাশনা সংস্থা ‘ঐতিহ্য’ থেকে প্রকাশিত এ কবিতাগ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন দেওয়ান আতিকুর রহমান। ৬৪ পৃষ্ঠার বইটিতে রয়েছে ছত্রিশটি কবিতা। দাম রাখা হয়েছে ১২০ টাকা। ঐতিহ্যের প্যাভিলিয়ন ১৬ থেকে ২৫% ও রকমারি থেকে ২৭% ছাড়ে এটি কেনা যাবে।

লেখকের এই বই সম্পর্কে মঈনুস সুলতান বলেন, পড়তে পড়তে কেন জানি মনে হয়, পঙিক্তগুলোতে শব্দ ও বাক্প্রতিমা প্রভৃতির আবডালে প্রকাশভঙ্গিতে পরস্ফুিট হয়ে উঠেছে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার খতিয়ান। কিছু কিছু ছত্র যেমন—‘রক্তগুলো কয়েকশ আলোকবর্ষের বৃষ্টি… নীলরঙা সবুজে জীবন ফুটছ’, ‘অপলক চোখের সমুদ্র চেয়ে থাকবে জীবনের অপেক্ষায়’, সন্ধ্যা যতদূর একা একা হেঁটে যেতে পারে/দূরের আধমরা নদীতে রাত্রিটার শুয়ে পড়া শেষে/এখানে-ওখানে তোমার মৃত্যুতে ভেসে ওঠা দেশে/আমি খুব একা/একা বন একা পাখিদের উড়াল/একা সবুজের ঢেউ।’ যখন পড়ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল, গাঢ় নিঃসঙ্গতার সাথে কবি সেতু গড়ে তুলেছেন কল্পনাপ্রবণ নিসর্গপ্রিয়তার। আবার পড়তে পড়তে চোখ আটকে যায় ‘ফাটা পাহাড়, ভাঙ্গা পাথর’, ‘তোমাকে হারানোর আয়োজনে’ প্রভৃতিতে, এবং এ শব্দগুলো হয়ে ওঠে অপ্রাপ্তির প্রতীক।

দেড় যুগ ধরে কবিতা লিখছেন জুননু রাইন। প্রথম বই বেরুতে এতো সময় নেওয়া কারণ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে, একজন লেখকের লেখালেখির জীবনের একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পরে বই করলে ভালো। পত্রপত্রিকায় লিখে পাঠক ও সমালোচকদের মন্তব্যে নিজের কবিতা সম্পর্কে ধারনা নেয়া যায়। সে বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাছাড়া, বই প্রকাশের আগে নিজের একটি পাঠক শ্রেণী তৈরিও সময় নিয়ে বই করার অন্যতম কারণ। এযাবৎ লেখা কবিতা থেকে বাছাই করা কবিতা দিয়েই এই বইটি। তবে খুব কাছাকাছি সময়ের কবিতাই বেশি।

বইয়ের নাম প্রসঙ্গে জুননু রাইন বলেন, খৃষ্টপূর্ব ২১০০ অব্দে মেসোপটোমিয়ায় সৃজিত গিলগামেশ মহাকাব্যের একটি চরিত্রের নাম ‘এয়া’। এই মহাকাব্যটি যারা পড়েছেন- তাদের কাছে কবিতাগুলো আরও ব্যাপক অর্থে ধরা দিতে পারে। এতে প্রেম, বিরহ বা প্রার্থনার বিষয় থাকতে পারে। যার কাছে যেটা ধরা দিবে, সেটা’ই।

এদিকে  ‘এয়া’ সম্পর্কে  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,  জুননু রাইনের কবিতার বইয়ের নাম রেখেছে এয়া; আদি মহাকাব্য ‘গিলগামেশের’ এক দেবতার নামে নাম সেটি। এ দেবতা প্রজ্ঞার। গিলগামেশের জগত্টা আদিম, সেখানে আছে যুদ্ধ, আছে নিষ্ঠুরতা ও ববর্রতাও; রয়েছে মানুষের ক্রন্দনও, আছে বাঁচার সংগ্রাম। আর আছে অসামান্য বন্ধুত্ব, গিলগামেশের সঙ্গে তার প্রথমে প্রতিপক্ষ এবং পরে সুহৃদ এঙ্কুডুর। বন্ধুত্বের সেই মমতা এই বইয়ের সর্বত্র পাওয়া যাবে; বলা যায় স্পর্শ করা যাবে। বই নিয়ে তার এই প্রথম আত্মপ্রকাশ। সম্ভাবনা নিয়ে নয়, পূর্ণতা নিয়েই। তাকে অভিনন্দন।

কবি আহমদ রফিক বলেন,  কবি বা পাঠক, আমরা জানি কবিতা যেমন মৃত্যুহীন তেমনি কবিতায় ভালোবাসারও মৃত্যু নেই, অন্তহীন তার নানামাত্রিক প্রকাশ। জুননু রাইনের কবিতাগুলোকে এমন এক উপলব্ধির নিরিখে পাঠ করলে কবিতাগুলোর প্রতি সুবিচার করা হবে বলে আমার বিশ্বাস। বিশেষ করে মন ও মননকে এক মাত্রায় রেখে। এ দুটোই মানব-মস্তিষ্ক কোষের প্রতিক্রিয়ার দান বলে আমি বিশ্বাস করি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সেই অর্থে এখনও করি নি। কবিতা একটি নিমগ্ন কাব্য জীবন পেতে চায়, সেটা না দিতে পারলে কবিতা লিখব না। কবিতাকে বাঁচতে হলে সর্বোচ্চ জীবনী শক্তির অধিকারী হতে হয়। খারাপ না, মোটা মুটি ভাল, এসবে সাহিত্যের অন্য অন্য মাধ্যম চলে হয়ত, কবিতায় পুরোটাই লাগে। তো সেভাবে যদি নিজেকে সময় না দিতে পারি- কবিতা লিখবই সে কথা বলতে পারছি না। এখন উপন্যাসের যায়গাটি খালিই বলা যায়। এখানে কাজ করার ইচ্ছে আছে।









Leave a reply