পেটে ভাত না থাকলে বিনোদনের বিষয়টা ভাবনাতীত: মিলন মাহমুদ

|

এফ এ শোভন:

সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের অন্যতম মৌলিক শর্ত সুস্থ বিনোদন। তবে জীবনধারণের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো বিষয়গুলোর যে অতি আবশ্যিক সেটি আর না বললেও চলছে। মানুষ যখন ঠিকভাবে খেতে পারে না তখন বিনোদন নেয়ার বিষয়টি ভাবনাতীত হয়ে দাঁড়ায়। এমনটাই বলছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিলন মাহমুদ। করোনাকালীন সংগীতের নানা দিক নিয়ে যমুনা টেলিভিশনের সাথে কথা হলো এই শিল্পীর।

চলমান মহামারিতে কেমন কাটছে এমন প্রশ্নের উত্তরে এই শিল্পী বলেন, আমরা ভালো নেই। বিশেষ করে যারা সংগীত নিয়ে আছি তাদের অবস্থা আগের মতো নেই। কারণ আমরা যারা মৌলিক গান করি তারা একটা ব্র্যান্ড ইমেজ নিয়ে থাকি। কিন্তু দীর্ঘদিন সাধারণ ছুটির পরে যেটুকু সময় পেয়েছিলাম সে সময়টাতেও ভালো কিছু করতে পারিনি।

ব্যাখ্যা করে মিলন মাহমুদ বলেন, আমরা যারা নিজের গান করি তারা আছি বেশি সমস্যায়। কারণ বর্তমান আয়োজকরা কম খরচে বিনোদন দিতে চান। ঠিক যেমন দর্শকরাও যেমন কম খরচে বিনোদিত হতে চায়। এর জন্য আয়োজকদের প্রধান আকর্ষণ থাকে যারা কভার গান করে থাকেন তাদের প্রতি। অর্থাৎ যারা অন্যের গানে পারফর্ম করে থাকেন। তাদের একটা নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়েই আয়োজকরা অনুষ্ঠান শেষ করেন। কিন্তু আমরা যারা নিজের মৌলিক গান করে এতদিনে একটা ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করেছি স্বাভাবিকভাবে তাদের পারিশ্রমিকও বেশি হয়ে থাকে। যেটা আয়োজকরা দিতে চান না। এর ফলে সংগীতশিল্পী তথা সংগীত হুমকির মুখে পড়ছে।

হতাশা প্রকাশ করে এই শিল্পী বলেন, আমাদের যেটা কাজ সেটা হচ্ছে গিয়ে লাইভ কনসার্ট। কিন্তু মহামারির কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের মৌলিক কাজের জায়গাতেই এখন প্রতিবন্ধকতা চলছে বলা যায়।

কভার পারফর্মারদের কারণে মৌলিক গান করা শিল্পীরা কোন সমস্যায় পড়ছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা হলো আয়োজকদের মূল্যবোধের সমস্যা, তাদের ভাবনার জায়গাতে সমস্যা। একটা মৌলিক সৃষ্টির ওপরে যদি সম্মানবোধটা থাকে তাহলে এমনটা হয় না। বর্তমান সময়ে এমন উপস্থাপক আমি দেখেছি যারা গান শেষে ‘ওয়াও অসাধারণ’ বলে ফের বলেন- আচ্ছা এরপর কী গান করবেন ভাইয়া? এর মানে হল আমি সেখানে টেপ রেকর্ডারের মতো কিছু বলছি যেটা ক্রমাগত বাজিয়েই যাবো। একটা গান করলাম তার সুরের সংযোজন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, লিরিকের গভীরতা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, সেই গানের বোধ নিয়ে কোনো আলোকপাত নেই। মূল্যবোধ যখন এই পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে তখন সংগীত কোনদিকে যাচ্ছে তা আর বুঝতে বাকি থাকে না আমাদের।

দীর্ঘদিন সাধারণ ছুটি- এর মাঝে আসলে কী কী কাজ করেছেন এই প্রশ্নের জবাবে মিলন মাহমুদ বলেন, এর ভেতরে কিছু কাজ করেছি। তার ভেতরে করোনার কিছু থিম সংয়ের কাজ করেছি। আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনকে ঘিরে কিছু কাজ করেছি কয়েকটা জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের সাথে।

উল্লেখ্য, স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার, চলো সবাই, যাক না উড়ে কিংবা চোরাবালি চলচ্চিত্রের ‘মা’ গানের মত অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এই শিল্পী। জানালেন খুব শিগগির ফের পর্দায় আসার কথা। এখন ব্যস্ত আছেন একটা ওয়েব সিরিজ নিয়ে। সেখানে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। একইসাথে ব্যস্ত আছেন একটি রোমান্টিকধর্মী মৌলিক গান নিয়ে। যার দৃশ্যায়ন করা হবে দেশের বাইরে।









Leave a reply