তিনমাসের লকডাউন শেষে যে ফল পেলো যুক্তরাজ্য

|

তিন মাস লকডাউনের পর ধীরে ধীরে কড়াকড়ি শিথিলের পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ঘোষণা, আগামী সপ্তাহেই খুলবে সব ধরনের দোকানপাট, বিনোদন কেন্দ্র। তবে সীমিত থাকবে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত। টিকা কর্মসূচির পরিধির সাথে সাথে বাড়ানো হবে নমুনা পরীক্ষার হার। প্রতি সপ্তাহে দু’বার র‍্যাপিড টেস্ট করাতে হবে শিশু’সহ সব নাগরিককে।

ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে নতুন করে করোনার প্রকোপ বাড়লেও যুক্তরাজ্যে নিম্নমুখী সংক্রমণের হার। টানা তিনমাস লকডাউন আর টিকা কর্মসূচির পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে মহামারি।

লকডাউন জারির চার সপ্তাহ পর তা শিথিলে প্রথম ধাপে পদক্ষেপ নেয়া হয় স্কুল চালু হয়েছিল। এবার ২য় ধাপে অত্যাবশ্যকীয় দোকানপাট ছাড়াও খুলবে সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র। রাতে বাড়ির বাইরে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয়া হবে।

যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, নাগরিকদের কষ্ট আর টিকা কর্মসূচির সাফল্যের জেরে এটা নিশ্চিত করতে পারি রোডম্যাপের ২য় ধাপে প্রবেশ করবো ১২ এপ্রিল। খুলে দেয়া হবে সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও চার ধাপে পরীক্ষার পরই নীতিমালায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আত্মতুষ্টিতে ভুগে অসাবধান হতে চাননা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাই এখনও জারি থাকছে কিছু কড়াকড়ি। যতদূর সম্ভব চালু থাকবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। সীমিত হবে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত। খুব প্রয়োজন ছাড়া বিদেশে ভ্রমণও বন্ধ থাকবে আরও কিছুদিন। তবে প্রশাসনের রোডম্যাপ অনুযায়ী ১৭ মে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চালুর পরিকল্পনা দেশটির। নিরাপদ ভ্রমণ প্রমাণে ‘ভ্যাকসিন পাসপোর্ট’ অনুমোদনের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

বরিস জনসন আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে না, রোডম্যাপ থেকে সরতে হবে। তবে সাবধান থাকতে হবে। প্রতিটি ধাপে পর্যালোচনার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জুলাই নাগাদ সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অন্তত এক ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাজ্য। শিশুদের ওপর টিকার ট্রায়াল শুরুর পরিকল্পনাও করছে বরিস প্রশাসন। একইসাথে হাতে নিয়েছে গণ নমুনা পরীক্ষা কর্মসূচি। যার আওতায় প্রতি সপ্তাহে দু’বার র‍্যাপিড টেস্ট করাতে হবে শিশুসহ সব নাগরিককে।

যুক্তরাজ্য চিফ সায়েন্টেফিক অ্যাডভাইজার প্যাট্রিক ভ্যালান্স বলেন, যখন অনেক মানুষ টিকা নেবে, ভ্যাকসিন ছাড়া মানুষকে আক্রান্ত করতে চাইবে ভাইরাস। এটাই ধর্ম। প্রতিবছর টিকা আপডেট প্রয়োজন হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে একই ভ্যাকসিন কাজ করবে। আরও ট্রায়াল হবে।

ইউরোপে কোভিড নাইনটিনে প্রাণহানিতে শীর্ষে ব্রিটেন। তবে সম্প্রতি সংক্রমণ আর মৃত্যু কমেছে দু’টিই। দেশটিতে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে ৩ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ, যা প্রতি ১০ জনে ৬ জন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply