‘শুভ জন্মদিন যমুনা টেলিভিশন’

|

মুরশিদুজ্জামান হিমু:

এক অদ্ভুত সময় এসেছে। বন্ধুর সাথে করমর্দন বারণ। সহসাই হাত রাখা যায় না প্রিয়তমার হাতে। অবিশ্বাস জন্মেছে নিজের প্রিয় দু’টি হাতের ওপরও। কী এক মরণঘাতী ভাইরাস ওলোট-পালট করে দিচ্ছে সবকিছু। গেল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই মাস্ক-স্যানিটাইজারযুক্ত জীবন। কবে শেষ হবে এসবের?

আপাতত সেই প্রশ্ন সময়ের হাতে তোলা। দেশকে করোনাভাইরাস নামক শত্রুর হাতে কিছুটা হলেও মুক্ত করতে ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। সবকিছু থমকে যাবার কথা তাতে। কিন্তু সময় তো বহতা নদীর মতো। তা থেমে নেই। সেই নদীর স্রোতের মতোই বইতে বইতে আমাদেরও চলে এলো আরেকটি বর্ষপূর্তি। সাত শেষ করে আট বছরে পা রাখছে আমাদের যমুনা টেলিভিশন। তাই শত দুঃসময়ের মধ্যেও বলতে হচ্ছে, ‘শুভ জন্মদিন যমুনা টেলিভিশন’।

গেল একটি বছর কত বাধাবিঘ্ন ও বিপৎসঙ্কুল পথ পার হতে হয়েছে আমাদের প্রতিটি কর্মীকে। ২০২০’র মার্চে যখন সব বন্ধ হয়ে গেল, চারদিক থেকে একের পর এক আসতে শুরু করলো করোনা সংক্রমণের খবর; তখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটা দিন প্রতিটা খবর সময়মতো পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছে আমার সহকর্মীরা। এই যুদ্ধসময়ে কত সহকর্মী আমাদের আক্রান্ত হলেন। তবে, তাতে মনোবল হারায়নি কেউ। কখনও কখনও একেকটি দুঃসংবাদ নতুন করে সাহস যুগিয়েছে সবাইকে। তার ফলও পেয়েছে যমুনা। কঠিনসময়ে ‘সব খবর সবার আগে’ দেয়ার ব্রত নিয়ে পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে। করোনার পুরো সময়টা যেন সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই দু’টি চরণ কানে বেজেছে সবসময়-বাঁচাব আমার দেশ, যাবে না তা শত্রুর দখলে’। এই শত্রু অদৃশ্য করোনাভাইরাস। আমরা যমুনার কর্মীরা চেষ্টা করেছি মানুষকে সচেতন করতে। অজানা এই ভাইরাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। হাজারও মানুষ যমুনার পর্দায় চোখ রেখে সচেতন হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ যমুনায় ফোন করে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিয়েছেন প্রয়োজনীয় পথ্য। পুরো এই সময়টিতে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল ‘মানুষের জন্য কিছু করার’। তা কতটুকু হয়েছে, তা বিচারের ভার দর্শকদের ওপরই থাক।

নিঃসন্দেহে ক্রান্তিলগ্ন চলছে আমাদের সকলের। প্রাণঘাতি এই ভাইরাস বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত কত সহকর্মী কেড়ে নিল! এইসব শোকও শক্তি হয়ে উঠেছে আমাদের। হয়তো জালালউদ্দিন মুহাম্মদ রুমি’র ওই কথাটিই আমাদের অনুপ্রেরণা, ‘শোক করো না। তুমি যাই হারাও না কেন, অন্য কোন রূপে তা ফিরে আসবে’।

নিশ্চয়ই খারাপ সময় চলে যাবে শিগগিরই। কারণ অন্ধকারের পর আলোই তো উঁকি দেবে। চিরন্তন এই কথাটি যে মিথ্যা হয়নি কখনও।

লেখক : সংবাদকর্মী









Leave a reply