বর্গাচাষিকে কোর্টে চালান করে ফসলি জমির ধান নষ্ট করার অভিযোগ

|

নড়াইল প্রতিনিধি :

নড়াইল সদর উপজেলার মুলদাইড় গ্রামের সুনিল বালা নামের এক বর্গাচাষির ফসলি জমির ধান নষ্ট করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার সকালে নড়াইল সদর উপজেলার মুলদাইড় গ্রামের নষ্ট করা ফসলি জমিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুলদাইড় গ্রামের শহিদুল ইসলাম, সুরুচি রায়, বাসন্তী রানী, রেখা রানী বালা, প্রত্যশী বালা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মুলদাইড় গ্রামের মৃৃত সুরেন বালার ছেলে সুনীল বালা অসহায় এক বর্গাচাষি। পরের জমি চাষ করে সংসার চলে তার। সে তালতলা গ্রামের জাহিদ মুন্সীর মুলদাইড় মাঠের ১৮ শতক জমিতে ইরিধান আবাদ করেছে এবং ফসলও ভালো হয়েছে। কিন্তু গতকাল (শুক্রবার) তালতলা গ্রামের মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে একদল লোক এসে সেই ধান নষ্ট করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এই জমি বর্গাচাষ করার অপরাধে গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশ এসে থানায় কথা বলার কথা বলে সুনীল বালাকে নিয়ে গিয়ে কোর্টে চালান করে। যে কারণে তার স্ত্রী গীতা বালা সন্তান নিয়ে হতাশ হয়ে আতঙ্কে কান্নাকাটি করছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু সমাধান চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা গোলাম মোস্তফা বলেন, এটা আমার জমি এবং এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এ জমি সুনীল বালা ও ডাবলু জবর দখল করে খাচ্ছিলো। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। সেজন্য পুলিশ সুনীল বালাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমি থানা পুলিশকে জানিয়েই আমার জমি পরিষ্কার করেছি।

এ বিষয়ে জাহিদ মুন্সী বলেন, মাওলানা গোলাম মোস্তফা আমার চাচাতো চাচা। অনুমান ৩৬ বছর পূর্বে আমার পিতার মৃত্যুর পর হতে যোগসাজশে জোর পূর্বক আমার পিতার জায়গা ভোগ দখল করে আসছিল। আমি ২০০১ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে বিদেশ (কুয়েত) চলে যাই। আমি কুয়েতে থাকাকালীন আমার চাচা মাওলানা গোলাম মোস্তফা সদর থানাধীন ১৩৭ নং তালতলা মৌজার খতিয়ান নং- ৮৫ এর সাবেক দাগ নং- ৪৪ এর অধীনে ১৮ শতাংশ ধানী জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করতে থাকে।
আমি ২০১৫ সালে বাড়িতে আসার পর আমার জমি ভোগ দখল করতে থাকি। এরপর থেকে আমার চাচা উক্ত জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করার জন্য আমাকে খুন জখম করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে। যার কারণে আমি জমিটি সুনীল বালাকে বর্গা দেই। সুনীল বালা জমিতে অনুমান ২ মাস পূর্বে ইরি ধান বপন করে। শুক্রবার সকালে বেআইনিভাবে লাঠি-সোটাসহ আমার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমিতে থাকা ধান উপড়ে ফেলে আনুমানিক ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এসআই শোভনকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুনীল বালার জামিনের জন্য সহযোগিতা করা হবে।

ইউএইচ/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply