নেত্রকোণায় শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

|

স্টাফ রিপোর্টার

ঝড়-বৃষ্টি মৌসুমের শুরুতেই নেত্রকোণায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বোরো, সবজি ফসল ছাড়াও ক্ষতি হয়েছে লিচু ও আম মুকুলের।

মঙ্গলবার ভোর ৫টায় শুরু হয়ে অধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই শিলাবৃষ্টি হয় জেলার সদর, কলমাকান্দা, মদন, খালিয়াজুরি ও পূর্বধলা উপজেলায়।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, শীত বিদায়ের পর প্রথম বৃষ্টি হয়েছে আজ মঙ্গল ভোরে। প্রথম বৃষ্টিতেই ব্যাপক শিল পড়েছে। এতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়। এর মধ্যে অনন্তপুর, ফচিকা, দেওপুর, বালি এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বাড়ি-ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। বোরো ফসলের ক্ষতি ছাড়াও লিচু ও আমের মুকুল ঝরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে শাকসবজিরও।

নেত্রকোণা সদরের অনন্তপুর গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, ‘ভোরে পয়লা বৃষ্টি পড়তে থাকলেও শিল আছিলো না। কিছুক্ষণ পরেই শিল পড়া আরম্ভ হইছে। ৬ থেকে ৭ মিনিট টানা পড়ছে। চাল ভাইঙ্গা ছিদ্রি কইরালছে। ঘরের ভিতরে শিল পড়ছে।’

একই গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, আমার সবজি ক্ষেতের গাছ মাটিতে মিশাইয়া ফালাইছে।

দেওপুর গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিটা বোরো ফসলের লাইগ্যা ভালই হতো। কিন্তু পাথর (শিল) পইরা ধান গাছের গজানো শীষ নষ্ট অইয়া গেছে। আমরার এলাকার বালি ফচিকাতেও বেশি ক্ষয়ক্ষতি অইছে।’

সদরের ফচিকা গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এইবার আম ও লিচু গাছে ফলন ভাল অইতো। অনেক মুকুল ধরছিল।কিন্তু শিলে অনেক ক্ষতি অইছে। মুকুল পইরা গেছে। গাছে যেলাগাত আছে ওইগুলাতেও ফলন অইব না। শিলের আঘাতের লাইগ্রা টিকবো না।’

নেত্রকোণা সদরের অনন্তপুর গ্রামের আনিসুর রহমান জানান, ‘আম বাগানের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে আমের মুকুল ঝরে গেছে। মুকুল ঝরে যাওয়ায় আশানুরূপ আম উৎপাদন হবে না।’

খালিয়াজুরী সদরের কৃষক মহসিন মিয়া বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে ছায়ার হাওরের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে উঠতি বোরো ধানের সব চারা ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।’

খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামীম মোড়ল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ২৫ শতাংশ বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বোরো জমি তিনি পরিদর্শন করেছেন।’

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ‘শিলাবৃষ্টিতে খালিয়াজুরী উপজেলার ছায়ার হাওর ও বয়রার হাওরের বোরো ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমের মুকুলের। বোরো ধানের তেমন কোনো ক্ষতির খবর আমরা পাইনি। প্রতিটি উপজেলায় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।’





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply