শিলাইদহ পদ্মা নদীতে রমরমা বালু বাণিজ্য, হুমকির মুখে পাঁকা রাস্তা

|

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি ভাবে বালু উত্তোলন নিষেধ থাকলেও সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালু উত্তোলন করে রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এ থেকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।

পদ্মা চরের বালু বহনের ফলে সরকারের কোটি টাকায় সংস্কার করা পাবনার পাকা রাস্তাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার চরসাদীপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল।

পদ্মায় জেগে ওঠা চরের ২টি স্থান থেকে ভেকু দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ৫ শতাধিক ড্রাম ট্রাক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে যা ২৪ ঘন্টায় প্রায় ছয় লাখ টাকার বালু বিক্রি হচ্ছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, সড়কগুলোর পাশের বসতি মানুষের ঘুম হারাম এবং হুমকির মুখে রয়েছেন পাবনার রাস্তাগুলো।

রাস্তায় চলাচলের অটোরিকশার যাত্রীরা বলেন, মাত্র গুটি কয়েক মানুষের জন্য আগে দিনের বেলায় চলাচলের কষ্ট হতো এখন রাত-দিন ২৪ ঘন্টা আমাদের এতে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাগুলোর পাশের বসতিরা জানান, দিনরাত ২৪ ঘন্টায় এখন ড্রাম ট্রাকগুলো মাটি বহন করায় আমাদের যেমন বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে তেমন রাতের ঘুমও হারাম হয়েছে।

স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কারণে কিছু বলা যাচ্ছে না। কিছু বললে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি চলে আসে। কারণ শিলাইদহ ঘাট থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বালু খেকোদের আবার ম্যানেজ করে ব্যবসা চালাতে হয়।

পাবনা থেকে কুষ্টিয়া যাতায়াতের জন্য খুব স্বল্প সময়ের রাস্তা হলো টেকনিক্যাল টু শিলাইদহ ঘাট। এ রাস্তায় প্রায় প্রতিদিন বিশ হাজার লোকের চলাচল। প্রতিদিন শিলাইদহ পদ্মা চর থেকে অবৈধ বালু কেটে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কোমরপুর বাজারের উপর দিয়ে অতিরিক্ত বালি বোঝাই ড্রাম ট্রাকগুলো লঞ্চঘাট, বাংলা বাজার হয়ে টেকনিক্যাল মোড় দিয়ে পাবনার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বালু-বোঝাই ভারি ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের কারণে নদী তীরবর্তী গ্রামীণ মাটির সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগস্থ হচ্ছে। লঞ্চঘাট ব্রিজ, বাংলাবাজার, টেকনিক্যাল মোড়ে প্রায় সময়ই যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

পাশাপাশি ড্রাম ট্রাকগুলোর উচ্চ আওয়াজের হর্ন ও রাস্তার ধুলায় যাত্রীদের নাকে মুখে গিয়ে হচ্ছে এলার্জি জনিত রোগ এবং ঠান্ডা রোগীদের শ্বাসকষ্ট। শিলাইদহ রাস্তায় চলাচল করা বেশ কয়েকজন ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, চরসাদীপুর ইউনিয়নের সামসুল মেম্বার, জহুরুল মেম্বার, জিলাল, রেজাই, চাঁদ ও আশরাফ মোল্লাসহ ১৫-২০জন স্থানীয় প্রভাবশালী বালু খেকোরা পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক বালি উত্তোলন করে পাবনার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। পদ্মা নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকা রয়েছেন নিবর।

এবিষয়ে স্থানীয় কেউ বালু খেকোদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে নানা ধরনের হুমকি। এ বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা এর সাথে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের ঘটনায় মাঝে মধ্যেই পদ্মা নদীতে মোবাইল কোর্ট করে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করা হয়। তবে সার্বক্ষণিক সেখানে বসে থাকাতো সম্ভব হয় না। আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, বালু উত্তোলনের বিষয় আমরা জানিনা তবে খোঁজ নিয়ে যদি কুমারখালী উপজেলায় হয় তাহলে আইন আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে সাদীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভূক্তভোগী এলাকাবাসী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply